কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা নদীর বাম তীরের প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকা কোনো ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় নদীপাড়ের বাসিন্দারা তীব্র ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। একই সঙ্গে নদীর তীর রক্ষার জন্য সাড়ে চৌদ্দ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে, তার তিনটি অংশে কাজ এখনো শুরু না হওয়ায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নদীর পানির উচ্চতা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং পানি কমে গেলে দ্রুতগতিতে কাজ সম্পন্ন করা হবে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের আওতায় ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে উলিপুর উপজেলার তিস্তা নদীর বাম তীরের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অংশে মোট চল্লিশটি অংশভিত্তিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এসব কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত অর্থের পরিমাণ ছিল পঁচাশি লক্ষ টাকা। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই প্রায় পঁচাত্তর শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা হলেও এখনো তিনটি অংশের কাজ শুরু না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমে ওয়াপদা ক্রস বাঁধ থেকে পূর্বে গাইবান্ধা জেলার কাসিমবাজার পর্যন্ত ভাঙন প্রতিরোধে উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাঝের কিছু অংশে কার্যক্রম না থাকায় পুরো এলাকা ঝুঁকির মধ্যে রয়ে গেছে। তাঁদের আশঙ্কা, আসন্ন বন্যা পরিস্থিতিতে প্রায় পঁচিশ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বর্ষাকালে অনেক পরিবারকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হয় এবং গবাদিপশু নিয়েও চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
বজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, ইউনিয়নের সাড়ে ছয় কিলোমিটার তিস্তা তীরের মধ্যে তিন কিলোমিটার অংশে কাজের অনুমোদন থাকলেও এখনো তিনটি অংশের কাজ শুরু হয়নি। পাশাপাশি অবশিষ্ট সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশের জন্য কোনো অনুমোদন না থাকায় পুরো এলাকা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুড়িগ্রাম দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, তিস্তা নদীতে দুই ধাপে সাড়ে চৌদ্দ কিলোমিটার এলাকায় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি অংশে মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন হলেও ঢাল সুরক্ষা কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। নদীর পানি কমে গেলে দ্রুত এসব কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি আরও সাড়ে তিন কিলোমিটার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অংশ চিহ্নিত থাকলেও এখনো তার অনুমোদন পাওয়া যায়নি। এসব অংশ বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে বালুর বস্তা ব্যবহার করা হবে।
নিচে বর্তমান পরিস্থিতির একটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|
| নদী তীর প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের দৈর্ঘ্য | সাড়ে চৌদ্দ কিলোমিটার |
| অরক্ষিত নদী তীর | প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার |
| চলমান কার্যক্রমের অংশ সংখ্যা | চল্লিশটি |
| বরাদ্দকৃত অর্থ | পঁচাশি লক্ষ টাকা |
| সম্পন্ন কাজের পরিমাণ | প্রায় পঁচাত্তর শতাংশ |
| অসম্পন্ন অংশ | তিনটি |
| ঝুঁকিতে থাকা জনসংখ্যা | প্রায় পঁচিশ হাজার |
বর্তমান পরিস্থিতিতে তিস্তা নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের অসম্পূর্ণতা ও অরক্ষিত অংশগুলো বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা অব্যাহত রয়েছে।
