জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

শাহজালাল বিমানবন্দরে ৭ কেজি ‘কুশ’বা উচ্চমানের গাঁজা জব্দ, ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থাইল্যান্ড থেকে নিয়ে আসা মারাত্মক মাদক ‘কুশ’ বা উচ্চমানের গাঁজার দুটি বড় চালান পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ভিন্ন দুটি অভিযানে মোট ৭ কেজি ১৮০ গ্রাম কুশ জব্দ করা হয়েছে। এই চালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হোসাইন আবদুল কাদের শেখ নামে এক ভারতীয় নাগরিককে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে অন্য এক অভিযানে ডিএনসির চোখ ফাঁকি দিয়ে নিজেদের মালামাল ও পাসপোর্টের কপি ফেলে স্থান ত্যাগ করেছেন আরও দুই ভারতীয় নাগরিক।

শনিবার বিকেলে বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল এলাকা অতিক্রম করার সময় হোসাইন আবদুল কাদের শেখের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে আটক করে ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের একটি টিম। পরবর্তী সময়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তার ট্রলিব্যাগ তল্লাশি করা হয়। ব্যাগটির ভেতর জামাকাপড়ের তলায় সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ৩ কেজি কুশ উদ্ধার করতে সক্ষম হন কর্মকর্তারা। ডিএনসির অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. আবু সাঈদ মিয়া বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওই ব্যক্তির কাছ থেকে তার ভারতীয় পাসপোর্ট, একটি স্পর্শকাতর স্মার্টফোন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধের লেনদেনে ব্যবহৃত বৈদেশিক মুদ্রা—৪০০ মার্কিন ডলার, ১,৫৫০ থাই বাথ ও ৪০০ ভারতীয় রুপি উদ্ধার করে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হওয়া কাদের জানান, ঢাকার কিছু স্থানীয় মাদক কারবারির সাথে আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল তার। তাদের সহযোগিতাতেই থাইল্যান্ড থেকে বিমানে করে তিনি এই মাদকের চালান দেশে নিয়ে আসেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলেও একই পদ্ধতিতে মাদক পাচারের আরেকটি ঘটনা ঘটে। ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান আকাশ দুবে (২৮) ও আকাশ পান্ডে (৩৪) নামে দুই ভারতীয় যাত্রী। তারা বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের সময় সেখানে কর্তব্যরত ডিএনসি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও তৎপরতা বুঝতে পারেন। ধরা পড়ার ভয়ে নিজেদের দুটি ভারী ট্রাভেল ট্রলি এবং সাথে থাকা পাসপোর্টের ফটোকপি গ্রিন চ্যানেলেই ফেলে দ্রুত ভিড়ের মধ্যে সটে পড়েন তারা। পরবর্তীতে কাস্টমস ও বিমানবন্দরের অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ট্রলি দুটি জব্দ করে তার ভেতর তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে ৪ কেজি ১৮০ গ্রাম খাঁটি কুশ উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, পলাতক ওই দুই আসামির বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতার গোন্দলপাড়া এলাকায়।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ‘কুশ’ হলো প্রথাগত সাধারণ গাঁজার চেয়ে বহু গুণ বেশি শক্তিশালী, সংশ্লেষিত ও মারাত্মক এক ধরনের মাদক, যা মূলত থাইল্যান্ড ও উত্তর আমেরিকার দেশে ব্যাপকভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। আন্তর্জাতিক মাদক বাজারে অত্যন্ত উচ্চমূল্যে এটি বেচাকেনা হয়। বর্তমানে বিমানবন্দরে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ বিশদভাবে বিশ্লেষণ করে চম্পট দেওয়া দুই ভারতীয় চোরাকারবারির গতিপথ চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে। পৃথক এই দুটি আন্তর্জাতিক মাদক পাচার ও চোরাচালানের ঘটনায় রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আলাদা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর