গাজীপুর মহানগরীর শিল্পাঞ্চলে একটি নিটিং কারখানায় নৈশকালীন নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুর্ধর্ষ এক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল বাউন্ডারি ওয়াল টপকে ও জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢোকে। তারা উপস্থিত কর্মচারীদের হাত-পা বেঁধে নগদ টাকা ও কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ নিটিং সুতা লুট করে ট্রাকে করে সটে পড়ে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে কাশিমপুরের বড় ভবানীপুর এলাকায় অবস্থিত ‘মির্জা অ্যাপারেলস লিমিটেড’ নামের প্রতিষ্ঠানে এ তাণ্ডব চালানো হয়।
পুলিশ এবং ভুক্তভোগী কারখানা সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে সীমানাপ্রাচীর টপকে ভেতরে ঢোকার পর ডাকাত দলটি জানালার গ্রিল কেটে নিটিংসহ কারখানার মূল ভবনে প্রবেশ করে। ডাকাত সদস্যদের হাতে দেশীয় ধালো অস্ত্রের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। ভবনে ঢুকেই তারা পাহারায় থাকা নিরাপত্তাকর্মী ও নৈশকালীন কারখানার পাঁচজন কর্মচারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের কুপিয়ে বা গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পাটের রশি ও ফেব্রিক দিয়ে ওই পাঁচজনের হাত-পা শক্ত করে বেঁধে মুখ আটকে ফেলে রেখে দেওয়া হয়।
কর্মচারীদের জিম্মি করার পর অপরাধীরা কারখানার মূল গেটের শক্তিশালী তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা গুদামে রাখা ৭ হাজার ৩৫০ কেজি ফেব্রিক তৈরির বিশেষ সুতা এবং ক্যাশবাক্স ভেঙে নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
কারখানার সহকারী নিটিং অপারেটর রাব্বি ওই রাতের আতঙ্কের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “আমরা কাজ শেষ করে কারখানার ভেতরেই অবস্থান করছিলাম। রাত ৩টার দিকে হঠাৎ ১০-১৫ জনের একদল সশস্ত্র লোক ঘরে ঢুকে আমাদের ওপর পিস্তল আর রামদা উঁচিয়ে ধরে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর মুহূর্তের মধ্যে গুদাম ফাঁকা করে মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।”
মির্জা অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনিসুল হক জানান, ঘটনার পরপরই রাত ৩টার দিকে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি দ্রুত কারখানার দিকে খোঁজখবর নেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, লুণ্ঠিত ৭ হাজার ৩৫০ কেজি সুতার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। নগদ দেড় লাখ টাকাসহ এত বিপুল পরিমাণের কাঁচামাল হারিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের উৎপাদন সংকটে ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এ ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা খালিদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা চালানো হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ-উত্তর) শাকিল আহমেদ জানান, বিষয়টি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। তবে বড় এই পোশাক কারখানায় কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় দুষ্কৃতকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশকে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত সুতা ও অর্থ উদ্ধারে পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম কাজ শুরু করেছে।









