অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের সময় মাঠে থাকতে পারেননি শরিফুল ইসলাম। চোটের কারণে সিরিজের প্রথম টেস্টের একাদশের বাইরে ছিলেন বাঁহাতি এই পেসার। তবে সেই অনুপস্থিতিকে দুর্ভাগ্য হিসেবে দেখছেন না তিনি। বরং চোটের পর বিশ্রাম ও পুনর্বাসনের সুযোগ পাওয়াকে নিজের শরীরের জন্য ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন শরিফুল।
ম্যাকাইয়ে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট সামনে রেখে বুধবার, ১৯ আগস্ট সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন শরিফুল। সেখানে নিজের চোটের অবস্থা, প্রথম টেস্টে দলের সাফল্য এবং পরের ম্যাচে প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেন তিনি।
প্রথম টেস্টে খেলতে না পারার বিষয়টি নিয়ে শরিফুলের মধ্যে কোনো আক্ষেপ আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘না, আনলাকি না। যেটা হওয়ার, সেটা তো বলে-কয়ে হয় না। আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যই করেন। ইনজুরির পর কিছুদিন বিশ্রাম পেয়েছি, রিহ্যাব করেছি। আমার মনে হয়, শরীরের জন্য ভালোই হয়েছে।’’
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই জয় বাংলাদেশের জন্য ছিল স্মরণীয়। মাঠে থেকে সেই মুহূর্তের অংশ হতে না পারলেও দলের সাফল্যে নিজের আনন্দের কমতি নেই শরিফুলের।
দলের সঙ্গে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে রসিকতাও করেছেন তিনি। স্কোয়াডে না থাকলেও উদযাপনের ছবিতে জায়গা পাওয়াকে মজারভাবে তুলে ধরে শরিফুল বলেন, ‘‘আমার খুবই ভালো লেগেছে। আলহামদুলিল্লাহ। এরকম একটা জয়ের অংশ হতে পেরে, ছবির ভেতর তো অন্তত আসছি। স্কোয়াডে না থাকলেও খুবই ভালো লাগছে।’’
এখন বাংলাদেশের সামনে সিরিজ জয়ের সুযোগ। ডারউইনের সাফল্যের পর ম্যাকাইয়ের দ্বিতীয় টেস্টে জয় তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশের। এই ম্যাচে দলের পেসারদের পারফরম্যান্স নিয়েও আশাবাদী শরিফুল।
তবে নিজের জায়গা ফিরে পাওয়ার চেয়ে দলের সম্মিলিত পারফরম্যান্সকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। তার মতে, ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই বাংলাদেশ ভালো করতে পারলে জয় পাওয়া সম্ভব।
শরিফুল বলেন, ‘‘পেসাররা ভালো করলে ভালো লাগে। টিম বাংলাদেশ যখন ভালো করে, ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং তিন বিভাগেই যখন ভালো করে, তখন আরও বেশি ভালো লাগে। ইউনিট হিসেবে পারফর্ম করলেই কিন্তু আমরা জয়টা ছিনিয়ে আনতে পারি।’’
চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখছেন এই পেসার। সুযোগ এলে দলের প্রয়োজন অনুযায়ী অবদান রাখার প্রত্যয়ও জানিয়েছেন তিনি। প্রথম টেস্টে সতীর্থদের সাফল্য দেখেছেন বাইরে থেকে, এবার ম্যাকাইয়ে মাঠে নামার সুযোগ পেলে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হতে চান শরিফুল।
তবে শেষ পর্যন্ত একাদশে জায়গা হবে কি না, সেটি নির্ভর করবে দলের সমন্বয় ও তার শারীরিক প্রস্তুতির ওপর। শরিফুলের ভাষায়, ‘‘আমি সবসময়ই প্রস্তুত। দেখা যাক, যদি রিজিকে থাকে, ইনশাআল্লাহ।’’
ডারউইনের জয় বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। এখন সেই আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় টেস্টেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই দলের বড় লক্ষ্য। আর শরিফুলের জন্য এই ম্যাচটি হতে পারে চোট কাটিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে ফেরার সুযোগ।









