চাঁদপুরের ব্যস্ততম নদীপথে পরিচালিত বিশেষ এক অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ দুই নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ থানা-পুলিশ। রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা পৌনে ২টার দিকে চাঁদপুর লঞ্চঘাট এলাকা থেকে তাঁদের হাতেনাতে আটক করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নৌ পুলিশের একটি চৌকস দল এ ঝটিকা অভিযান চালায়।
আটক হওয়া দুই নারী হলেন ভোলার লালমোহন উপজেলার বাসিন্দা আমেনা বেগম (৩০) এবং মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার সিংপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোসাম্মৎ আছমা (৩৪)।
নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় সীমান্তবর্তী কুমিল্লা জেলা থেকে বিশেষ কায়দায় ট্রাভেল ব্যাগে লুকিয়ে এই মাদকের চালানটি নিয়ে আসা হচ্ছিল। চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে যাত্রীবাহী লঞ্চে চেপে নদীপথে মুন্সিগঞ্জ নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল তাঁদের। তবে লঞ্চঘাটে সাধারণ যাত্রীদের ভিড়ের মধ্যে তাঁদের অসংলগ্ন চলাফেরা ও ভারী ব্যাগ বহনের গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যদের। পরবর্তীতে তাঁদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও ব্যাগ তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে আমেনা বেগমের ট্রাভেল ব্যাগ থেকে ৬ কেজি এবং মোসাম্মৎ আছমার ব্যাগ থেকে ৩ কেজি—সর্বমোট ৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেন পুলিশ সদস্যরা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে এবং সন্দেহ দূর করতে সংঘবদ্ধ মাদক চোরাচালানি চক্রগুলো প্রায়ই নারী ও শিশুদের বাহক হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। এর বিনিময় হিসেবে তাঁদের নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বা কমিশন দেওয়া হয়। চাঁদপুর লঞ্চঘাট দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রধান নৌ সংযোগস্থল ও ট্রানজিট পয়েন্ট হওয়ায় এই রুটটিকে নিরাপদ ভেবে প্রায়ই মাদক পাচারের অপচেষ্টা চালায় অসাধু সিন্ডিকেটগুলো। বিষয়টি মাথায় রেখে সম্প্রতি নদীপথ নিরাপদ রাখতে এবং যেকোনো ধরণের চোরাচালান রুখতে চাঁদপুর নৌ থানা-পুলিশ লঞ্চঘাট ও টার্মিনাল এলাকায় সার্বক্ষণিক টহল এবং সাদা পোশাকে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজমগীর হোসেন জানান, উদ্ধারকৃত আলামতসহ আটক দুই নারীকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে মূল কোন চক্র জড়িত তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের অনুসন্ধান চলছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নদীপথ ব্যবহার করে মাদকের ব্যবসা বা পাচারের চেষ্টা করা হলে ভবিষ্যতে এমন কঠোর অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।









