পুরুষদের কাজের চাপ কমাতে পাম্পে তেলের লাইনে নারীরা

মাগুরা জেলায় জ্বালানি তেল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তির এক নতুন বাস্তবতা। পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন নিতে সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পারিবারিক দায়িত্ব ভাগাভাগি করতে এবং কৃষিকাজে বিঘ্ন কমাতে নারীরাও এগিয়ে এসে জ্বালানি সংগ্রহে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

মঙ্গলবার শহরের ভিটাসাইর এলাকার মা ফাতেমা ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন জ্বালানি পাম্পে সরেজমিনে দেখা যায়, পুরুষদের পাশাপাশি নারীর উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। কেউ শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে, কেউবা একাই লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করছেন। এই দৃশ্য সাম্প্রতিক সময়ের সামাজিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে।

সদর উপজেলার কাটাখালি এলাকার রোকসানা বেগম জানান, তার স্বামী কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকেন। জ্বালানি সংগ্রহে দীর্ঘ সময় নষ্ট হলে মাঠের কাজ ব্যাহত হয়। তাই পরিবারের স্বার্থে তিনি নিজেই লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছেন। একইভাবে কুলছুম বেগম বলেন, অতিরিক্ত পরিশ্রম ও দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে তার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এরপর থেকেই তিনি জ্বালানি সংগ্রহের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।

জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিটি জ্বালানি পাম্পে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে। ভিটাসাইর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, নারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করিয়ে মানবিক দিক বিবেচনায় দ্রুত জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আব্দুল আল মাহমুদ বলেন, জেলায় জ্বালানি তেলের প্রকৃত কোনো সংকট নেই। তবে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাবে ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়ায় কৃষক ও যানবাহন চালকদের মধ্যে অতিরিক্ত চাহিদা দেখা দিয়েছে। এর ফলে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে।

বর্তমান পরিস্থিতির একটি সারসংক্ষেপ নিচে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়বিবরণ
জেলায় পাম্প সংখ্যা১৪টি
প্রধান চাহিদাসম্পন্ন জ্বালানিডিজেল
ব্যবহার ক্ষেত্রকৃষি সেচ ও যানবাহন
অপেক্ষার সময়কয়েক ঘণ্টা থেকে প্রায় দিনব্যাপী
নারীদের অংশগ্রহণউল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি

চলমান ধান আবাদ মৌসুমে সেচ কার্যক্রম চালাতে বিপুল পরিমাণ ডিজেলের প্রয়োজন হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই জানিয়েছেন, সময়মতো জ্বালানি না পেলে ফসল উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই অনেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছেন, যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কৃষি কার্যক্রম সচল রাখতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ধারণ করে শৃঙ্খলার সঙ্গে জ্বালানি সংগ্রহের আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমান এই পরিস্থিতিতে নারীদের অংশগ্রহণ শুধু পারিবারিক সহায়তাই নয়, বরং সামাজিক দায়িত্ববোধেরও একটি শক্তিশালী উদাহরণ হয়ে উঠেছে।