বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে আলম সিদ্দিকী হককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগ। রাজধানী ঢাকার খিলগাঁও এলাকার একটি পেট্রোল পাম্প থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে ডিবি ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন জানান, নুরে আলম সিদ্দিকী হকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ জমা হয়েছিল। সেই অভিযোগগুলোর ওপর ভিত্তি করেই খিলগাঁও এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। আটক করার পরপরই নিরাপত্তা হেফাজতে তাকে রাজধানীর মিন্টো রোডস্থ ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে সেখানে তাকে নিয়ে প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোয়েন্দা সূত্র থেকে জানা গেছে, নুরে আলম সিদ্দিকী হককে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ পূর্বেও বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েছিল। তবে বারবার স্থান পরিবর্তন করার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছিল না। শেষপর্যন্ত রবিবার বিকেলে খিলগাঁওয়ের ওই পেট্রোল পাম্পে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে ডিবি পুলিশের দলটি ঝটিকা অভিযান চালায় এবং তাকে ধরে ফেলে। পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার পেছনে থাকা সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর সত্যতা ও বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনে তাকে সোমবার আদালতে হাজির করা হতে পারে। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে আদালতের কাছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানোর কথা ভাবছে ডিবি পুলিশ।
কৃষক লীগের শীর্ষপর্যায়ের এই নেতার রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড ও পূর্ব ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এর আগেও ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট সহিংসতা ও মামলার ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করেছিল ডিবি পুলিশ।
সেই সময় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় এবং তিনি দীর্ঘ মেয়াদে কারাবন্দী ছিলেন। দীর্ঘদিন জেলহাজতে থাকার পর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হন। জামিন পেয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার পর নুরে আলম সিদ্দিকী হক পুনরায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী অঙ্গসংগঠনের পক্ষে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে যুক্ত করেন। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক তৎপরতায় তার জড়িয়ে পড়ার তথ্য প্রমাণ আসার পরেই গোয়েন্দা পুলিশ তাকে পুনরায় নজরদারিতে আনে এবং পরিশেষে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে সকল বিদ্যমান আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।









