রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তরুণী নাট্যাভিনেত্রী ও মডেল রিধিকা রিধির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ছয়টার দিকে নিজ বাসার সিলিং ফ্যানে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর নিশ্চিত করে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, হাসপাতাল থেকে সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ গিয়ে মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন করে। তিনি বলেন, “অভিনেত্রীর মা ও স্বজনেরা থানায় এসে কিছু তথ্য দিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্যমতে, রিধির এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। শনিবার ভোররাতের দিকে সেই ব্যক্তির সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সময় তাঁদের মধ্যে তীব্র তর্কাতর্কি হয়। স্বজনদের অভিযোগ, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ভিডিও কল চালু থাকা অবস্থাতেই রিধি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন।”
প্রাথমিকভাবে বিষয়টি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ভাটারা থানায় মামলা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে ভিডিও কলে থাকা সেই যুবকের পরিচয় বের করা এবং এতে তাঁর কোনো প্ররোচনা বা উসকানি ছিল কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সত্যতা উন্মোচনে নিহত অভিনেত্রীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মডেলিংয়ের মাধ্যমে বিনোদন অঙ্গনে পা রেখেছিলেন রিধিকা রিধি। র্যাম্প শো ও বিজ্ঞাপনচিত্রে পরিচিতি পাওয়ার পর তিনি অভিনয়ে মন দেন। অভিনয়ের সহজাত দক্ষতা দিয়ে খুব অল্প সময়েই ছোট পর্দায় নিজের এক আলাদা পরিচিতি তৈরি করতে সক্ষম হন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘এখানে মানুষ বিক্রি হয়’, ‘বহুরূপী’, ‘ডাবল হানিমুন’ এবং ‘সুন্দরী’।
উদীয়মান এই শিল্পীর হঠাৎ ও রহস্যজনক মৃত্যুতে অভিনয় অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই এই মৃত্যুর আসল কারণ ও প্রেক্ষাপট স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।









