জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে সফরকারীরা। এই ঐতিহাসিক জয়ের অন্যতম প্রধান কারিগর মেহেদী হাসান মিরাজ। বল হাতে দ্বিতীয় ইনিংসে তার পাঁচ উইকেট অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে বড় ধস নামিয়ে দেয় এবং বাংলাদেশের সামনে জয়ের পথ অনেকটাই সহজ করে দেয়।

প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান সংগ্রহ করে। এতে সফরকারীরা ২২৮ রানের বড় লিড পায়। বাংলাদেশের হয়ে তানজিদ হাসান ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি হিসেবে তার এই ইনিংসটি ম্যাচের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা হয়ে ওঠে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ রান এবং মুমিনুল হকের ৪৯ রানও বড় সংগ্রহ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাট থেকে আসে ৬৫ রান।

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে বড় অবদান রাখার পর বল হাতেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন মিরাজ। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে তার নিয়ন্ত্রিত অফস্পিনের সামনে স্বাগতিক ব্যাটাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া ২৮৪ রানে অলআউট হয়। মিরাজ একাই তুলে নেন পাঁচ উইকেট। তার বোলিংয়ের ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান।

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ক্যামেরন গ্রিন প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তার ১০৪ রানের ইনিংস স্বাগতিক দলকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়। কিন্তু বাংলাদেশের বোলাররা চাপ ধরে রাখেন। মিরাজ মাঝের ও শেষের সারির ব্যাটারদের বিপাকে ফেলেন এবং শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে যায়।

এই ম্যাচে বাংলাদেশের আরেক বড় নায়ক হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে তার ছয় উইকেট অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংকে শুরুতেই বিপর্যস্ত করে দেয়। ম্যাচে মোট নয় উইকেট নিয়ে তিনি ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান। হাসানের পেস আক্রমণের পর মিরাজের স্পিন—বাংলাদেশের দুই ভিন্ন ধরনের বোলিং আক্রমণ অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংকে পুরো ম্যাচেই চাপে রেখেছিল।

এরপর মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ মাত্র এক উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে। অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের জন্য শেষ মুহূর্তে কোনো বড় নাটকীয়তার প্রয়োজন হয়নি; বরং পুরো ম্যাচজুড়ে নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সের ফলেই জয় এসেছে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় টেস্ট জয়। এর আগে ২০১৭ সালে ঢাকার মিরপুরে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে এবার সাফল্যের গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই স্বাগতিকদের হারানোর কৃতিত্ব অর্জন করল বাংলাদেশ।

মিরাজের পাঁচ উইকেটের কীর্তিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে পাঁচ উইকেট নেওয়া সফরকারী স্পিনারদের বিরল তালিকায় তার নাম যুক্ত হয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে সিডনি টেস্টে ভারতের কুলদীপ যাদব অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন। ২০১২ সালে হোবার্ট টেস্টে শ্রীলঙ্কার রঙ্গনা হেরাথ অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন; তার বোলিং বিশ্লেষণ ছিল ৫/৯৫।

মিরাজের পারফরম্যান্সের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তিনি ম্যাচে দুই বিভাগেই কার্যকর ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ৬৫ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে তিনি বাংলাদেশের জয়ের ভিত আরও মজবুত করেন। অন্যদিকে হাসান মাহমুদের নয় উইকেট এবং তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সকে পূর্ণতা দেয়।

এই জয়ের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে বাংলাদেশের সক্ষমতার একটি শক্তিশালী বার্তা পাওয়া গেল। দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সাফল্যের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশের জন্য ডারউইনের এই জয় শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়; এটি আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আর সেই ইতিহাসের কেন্দ্রে থাকলেন মেহেদী হাসান মিরাজ—ব্যাট হাতে ৬৫ রান, বল হাতে পাঁচ উইকেট এবং দলের প্রথম অস্ট্রেলিয়া-ভূমির টেস্ট জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর