জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

ভারতে নির্মাণাধীন টানেলে ধস ও কাদা-পানি: ৭ শ্রমিকের মৃত্যু, নিখোঁজ ৩

ভারতের পাহাড়ি রাজ্য উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নির্মাণাধীন টানেলের ভেতর কাদা-পানি ও পাহাড়ি ধসের নিচে চাপা পড়ে অন্তত সাতজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় সুড়ঙ্গের ভেতরে এখনও অন্তত তিনজন শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিস, জাতীয় ও রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত ১৮ জন শ্রমিককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে কাজ চলাকালে হঠাৎ এই বিপর্যয় ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চামোলি জেলার পিপালকোটি এলাকায় তেহরি হাইড্রো ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেডের (টিএইচডিসি) একটি বড় পরিসরের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে শ্রমিকেরা যখন টানেলের গভীরে নিয়মিত কাজ করছিলেন, ঠিক তখনই পাহাড়ের ওপর থেকে আচমকা কাদা, পাথর ও ঢলের পানি প্রবল গতিতে টানেলের ভেতরে ঢুকতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যেই পানির তীব্র স্রোত ও জমে থাকা কাদার তোড়ে অনেক শ্রমিক সুড়ঙ্গের নির্গমন পথের দিকে ভেসে যান। রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য মতে, দুর্ঘটনাটি ঘটার সময় সুড়ঙ্গের ভেতরে অন্তত ২৮ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন।

ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও জরুরি সেবা বিভাগগুলো। বর্তমানে ভারতের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এসডিআরএফ) একাধিক উদ্ধারকারী দল ভারী ক্রেন ও এক্সকাভেটর ব্যবহার করে জমে থাকা কাদা ও পাথর সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উদ্ধারস্থল সরাসরি তদারকি করছেন। স্থানীয় বিধায়ক লক্ষপত বুটোলা সাংবাদিকদের জানান, উদ্ধারকারী দলগুলো তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে এবং নিখোঁজ তিন শ্রমিককে দ্রুত খুঁজে বের করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

ঘটনার পর পরই উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দ্রুততম সময়ে উদ্ধার অভিযান শেষ করার পাশাপাশি আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিজে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন শ্রমিকদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ভর্তি থাকা রোগীদের অবস্থা বর্তমানে বেশ স্থিতিশীল। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় হতাহত শ্রমিকদের সিংহভাগই ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড় রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি ইতিমধ্যে উভয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করেছেন।

উত্তরাখণ্ড রাজ্যে গত কয়েক দিন ধরে একটানা মুষলধারে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের কারণে পার্বত্য অঞ্চলগুলোর স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত। এই ভয়াবহ বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই গত সোমবার চামোলির নীতি ভ্যালি এলাকায় পাহাড়ি নদীর তীব্র স্রোতে একটি বিশাল ধাতব সেতু উপড়ে সম্পূর্ণ ভেসে যায়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পিপালকোটির টানেলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে প্রতিনিয়ত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

Tags :

Md. Sakib

Recent News