জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ই জুলাই ২০২৬, ৪:৫৩ পিএম

নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারহানের বিরুদ্ধে এক সন্তানের জননী ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, স্বামীর বিরুদ্ধে চলমান একটি মামলায় আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়ে ওই নারীকে একটি বাসায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে একাধিকবার যৌন নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় তিনি দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত মেহেদী হাসান ফারহান (৩২) বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলার বাসিন্দা। তিনি আগে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার জালকুড়িতে বসবাস করতেন এবং বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার খাঁনপুর বিদ্যুৎ কলোনি এলাকায় থাকেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবং আসন্ন কমিটিতে সভাপতি পদপ্রত্যাশী বলেও জানা গেছে।
অন্যদিকে, মামলার বাদীর পৈতৃক বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় হলেও বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের ভূঁইগড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত বছরের ১ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ আদালতে স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলায় সহযোগিতার কথা বলে ভুক্তভোগীকে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলের ঢাকেশ্বরী এলাকার একটি বাসায় নিয়ে যান মেহেদী হাসান ফারহান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের ভয় দেখিয়ে পরবর্তী সময়ে প্রতি মাসে তিন থেকে চারবার বিভিন্ন স্থানে ডেকে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানাজানি হলে অভিযুক্ত বিয়ের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল সমঝোতার কথা বলে ভুক্তভোগীকে রাজধানীর কদমতলী থানার মোহাম্মদবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, বাসাটি ছিল অভিযুক্তের বন্ধু হৃদয় হাসান অভির ভাড়া নেওয়া। সেখানে মেহেদী হাসান ফারহান তাকে আরেক ব্যক্তি আরমানের কাছে তুলে দেন। ওই রাতে তিনি পুনরায় ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
এই ঘটনার পর ১৭ এপ্রিল কদমতলী থানায় মেহেদী হাসান ফারহান ও আরমানকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদীর অভিযোগ, মামলা দায়েরের কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, যা নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেহেদী হাসান ফারহান। তার দাবি, ব্যক্তিগত বিরোধ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকেই তার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট নারী পূর্বে তার স্বামীকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিরোধে জড়িয়েছিলেন এবং তিনি ছাত্রদলের আসন্ন কমিটিতে সভাপতি পদপ্রত্যাশী হওয়ায় নিজ দলের কিছু ব্যক্তি ওই নারীর সঙ্গে যোগসাজশ করে তাকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা করিয়েছেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কদমতলী থানার উপ-পরিদর্শক মো. সোহেল রানা জানান, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে এবং ভুক্তভোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন এখনো তদন্তকারী কর্মকর্তার হাতে পৌঁছেনি। তিনি বলেন, মামলায় বর্তমানে দুইজন আসামি থাকলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য