খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ২:১ পিএম

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সুখানপুকুর রেলস্টেশনে একই লাইনে দুটি ট্রেন প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। মুখোমুখি অবস্থানে দুটি ট্রেনকে দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে কয়েকজন যাত্রী চলন্ত ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়েন। এতে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে সুখানপুকুর রেলস্টেশনে একটি কলেজ ট্রেন প্রবেশ করছিল। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে পদ্মরাগ এক্সপ্রেসও একই লাইনে চলে আসে। অল্প সময়ের মধ্যে দুটি ট্রেন মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসায় উভয় ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি দেখে কয়েকজন যাত্রী প্রাণ বাঁচাতে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়েন। এতে অন্তত চারজন আহত হন।
আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার পর আহতরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ায় তাদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। তাদের কারও আঘাত গুরুতর কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে ট্রেন দুটির চালক এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। একই লাইনে দুটি ট্রেন কীভাবে প্রবেশ করল এবং ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণে কোথায় সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল, তা এখন খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সুখানপুকুর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আবদুল মতিন জানান, কলেজ ট্রেনটির জন্য সিগন্যাল দেওয়া হয়নি এবং লাইন ক্লিয়ারও করা হয়নি। এর আগেই ট্রেনটি স্টেশনে প্রবেশ করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ, ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি হয়েছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
সহকারী সেতু প্রকৌশলী, লালমনিরহাট, আফজাল হোসেন জানান, টিআই লালমনিরহাট ছহির উদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন এসএসএই/লোকো লালমনিরহাটের ইন্সপেক্টর কাজী সুমন এবং এসএসএই/সিগন্যাল জিয়াউল হক। তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
রেলওয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মতে, রেল চলাচলের ক্ষেত্রে সিগন্যাল ব্যবস্থা, লাইন ক্লিয়ার এবং স্টেশন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি ট্রেনকে নির্দিষ্ট লাইনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আগে ওই লাইনে অন্য কোনো ট্রেন চলাচল করছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ধরনের ব্যবস্থাপনায় সামান্য ভুলও ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
সুখানপুকুরের ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত বড় দুর্ঘটনায় রূপ না নিলেও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক এবং চারজনের আহত হওয়ার ঘটনা রেল চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। বিশেষ করে একই লাইনে দুটি ট্রেন কীভাবে প্রবেশের সুযোগ পেল, সেটিই এখন তদন্তের প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে সিগন্যাল ও ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি বা সমন্বয়হীনতা থাকলে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মন্তব্য