জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ৩:১৯ পিএম

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা শেষ হলেও তার রেশ এখনো কাটেনি। সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স বিবেচনায় বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ফুটবলপ্রেমীদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়েছে টুর্নামেন্টের ‘ড্রিম ইলেভেন’ বা সেরা একাদশ। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা প্রকাশিত এই স্বপ্নের দলে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে সদ্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং সাবেক চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের ফুটবলাররা। বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের বিপুল সাড়ায় গঠিত এই একাদশে মোট ছয়টি ভিন্ন দেশের তারকারা স্থান করে নিয়েছেন।
ঘোষিত ড্রিম ইলেভেনে সর্বোচ্চ তিনজন করে স্থান পেয়েছেন শিরোপাজয়ী স্পেন ও রানার্সআপ ফ্রান্স থেকে। অন্যদিকে টুর্নামেন্টের অন্যতম পরাশক্তি আর্জেন্টিনার দুজন ফুটবলার ঠাঁই পেয়েছেন এই দলে। বাকি তিনটি পজিশনে চমক দেখিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন কেপ ভার্দে, ইংল্যান্ড এবং নরওয়ের একজন করে তারকা ফুটবলার।
এবারের ড্রিম ইলেভেনের সবচেয়ে বড় বিস্ময় কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েই সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল আফ্রিকান এই দেশটি। দলকে ইতিহাস গড়ে নকআউট পর্বে নিয়ে যেতে পোস্টের নিচে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ভোজিনিয়া। সমর্থকদের ৩৯.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে গোলরক্ষক হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করেন তিনি। যদিও টুর্নামেন্টের টেকনিক্যাল কমিটি গোল্ডেন গ্লাভস পুরস্কারটি তুলে দিয়েছিল স্পেনের উনাই সিমনের হাতে, কিন্তু বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মন জয় করে নেন কেপ ভার্দের এই জ্যেষ্ঠ তারকা।
রক্ষণভাগে কোচ ও সমর্থকদের পছন্দের সমন্বয় ঘটেছে দারুণভাবে। চারজনের ডিফেন্সে দুই উইংয়ে রাজত্ব করছেন স্পেনের পেদ্রো পোরো ও মার্ক কুকুরেয়া। মাঝমাঠের রক্ষণে দৃঢ়তা বাড়াতে ফুটবলপ্রেমীরা বেছে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বস্ত সেনানী লিসান্দ্রো মার্তিনেস এবং ফ্রান্সের তারকা রক্ষণভাগ সেনা দায়ো উপামেকানোকে।
মাঝমাঠে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি। গোল কিংবা অ্যাসিস্টের খাতায় নাম না লেখালেও পুরো টুর্নামেন্টে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের পকেটে রেখেছিলেন তিনি। স্পেনকে শিরোপা জেতানোর মূল কারিগর হিসেবে টুর্নামেন্ট সেরা ‘গোল্ডেন বল’ জেতার পাশাপাশি ভক্তদের ভোটেও ড্রিম ইলেভেনে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেন রদ্রি। মিডফিল্ডের বাকি দুই পজিশনে আছেন দারুণ পারফর্ম করা ফ্রান্সের মাইকেল অলিসে এবং ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম। অলিসে একাই করেন সর্বোচ্চ ৭টি গোল অ্যাসিস্ট। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের বেলিংহাম থ্রি লায়ন্সদের হয়ে মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ সামলে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠান ৭ বার।
আক্রমণভাগে দেখা গেছে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুরধার ও বিধ্বংসী ত্রিভুজ। আন্তর্জাতিক ফুটবলের দুই সেরা তারকা লিওনেল মেসি এবং কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হলান্ড। নরওয়েকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তোলার নেপথ্যে মূল ভূমিকা ছিল হলান্ডের। মাত্র ৫ ম্যাচ খেলে ৭ গোল করা এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারকে ২৭.৫ শতাংশ সমর্থক তাদের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন।
অন্যদিকে গোলের লড়াইয়ে টুর্নামেন্ট মাতিয়ে রাখা এমবাপে ও মেসি অনুমিতভাবেই সেরা একাদশে ঢুকে পড়েছেন। ১০টি গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে গোল্ডেন বুট নিজের নামে করেন ফরাসি তারকা এমবাপে। তার চেয়ে মাত্র দুই গোল পেছনে থেকে ৮ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা ও অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
| পজিশন | খেলোয়াড়ের নাম | দেশ | বিশেষ কৃতিত্ব/নোট |
| গোলকিপার | ভোজিনিয়া | কেপ ভার্দে | ৩৯.৬% ভোট পেয়ে নির্বাচিত, দলকে প্রথমবার নকআউটে তোলেন |
| ডিফেন্ডার | পেদ্রো পোরো | স্পেন | রক্ষণে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য |
| ডিফেন্ডার | লিসান্দ্রো মার্তিনেস | আর্জেন্টিনা | ডিফেন্সে কার্যকর পারফরম্যান্স ও রানার্সআপ দলের সদস্য |
| ডিফেন্ডার | দায়ো উপামেকানো | ফ্রান্স | শক্তপোক্ত সেন্ট্রাল ডিফেন্স প্রদর্শন |
| ডিফেন্ডার | মার্ক কুকুরেয়া | স্পেন | ফুলব্যাক হিসেবে টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিকতা |
| মিডফিল্ডার | রদ্রি | স্পেন | টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় (গোল্ডেন বল বিজয়ী) |
| মিডফিল্ডার | মাইকেল অলিসে | ফ্রান্স | পুরো টুর্নামেন্টে সর্বাধায়ক ৭টি গোল অ্যাসিস্ট |
| মিডফিল্ডার | জুড বেলিংহাম | ইংল্যান্ড | মাঝমাঠে খেলে একাই করেন ৭টি গোল |
| ফরওয়ার্ড | লিওনেল মেসি | আর্জেন্টিনা | ৮টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় দ্বিতীয় |
| ফরওয়ার্ড | আর্লিং হলান্ড | নরওয়ে | ২৭.৫% ভোট পান, মাত্র ৫ ম্যাচে করেন ৭ গোল |
| ফরওয়ার্ড | কিলিয়ান এমবাপে | ফ্রান্স | ১০টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা (গোল্ডেন বুট বিজয়ী) |
মন্তব্য