,

ঝিনাইদহে সারের দাবিতে ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও ও বিক্ষোভ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় কাঙ্ক্ষিত সার না পাওয়ার অভিযোগে একটি ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও করে তীব্র বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। রোববারের এই ঘটনায় এলাকায় কিছু সময় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে কৃষি প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে ডিলারের গুদামে মজুত থাকা সার তাৎক্ষণিকভাবে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
উপজেলার জামাল ইউনিয়নের দুধরাজপুর গ্রামের ডিলার শহিদুল ইসলামের বিক্রয়কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। ক্ষুব্ধ কৃষকদের অভিযোগ, রোববার সকালে সার বিক্রির কথা নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ডিলার পয়েন্টে পৌঁছানোর পর তাঁদের জানানো হয় যে শুক্র ও শনিবারের মধ্যেই সব সার বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। এই কথায় সন্দেহ হওয়ায় কৃষকেরা ডিলারের তালাবদ্ধ গুদামটি খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে প্রায় ৬০ বস্তা সার দেখতে পান। পরে এই অনিয়মের খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের কৃষকেরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে এই ডিলারের জন্য ৬৪ টন সারের চাহিদা ছিল। এর বিপরীতে তিনি ৫৮ টন, অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার ২০০ বস্তা সার উত্তোলন করেছিলেন। তবে বিতরণ রেজিস্টার পর্যালোচনা করে সেখানে বড় ধরনের অসঙ্গতির প্রমাণ মেলে। রেজিস্টারে থাকা কৃষকদের নামের পাশে মাত্র পাঁচ শতাংশের মতো মোবাইল নম্বর লিপিবদ্ধ ছিল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সংবাদকর্মীরা রেজিস্টার থেকে ৯ জন কৃষকের নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। এর মধ্যে কেবল একজন সার পাওয়ার কথা স্বীকার করেন, আর বাকি আটটি নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়।
ডিলার শহিদুল ইসলাম সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন যে, উত্তোলন করা সমস্ত সার নিয়মতান্ত্রিক উপায়েই কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি শান্ত করেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত জামিল। তিনি জানান, কৃষকদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে গুদামে থাকা অবিক্রীত সার তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও সার আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং বিতরণের রেজিস্টারে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি জানান, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়। কৃষকদের শান্ত করে দ্রুত সার বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সংকট এড়াতে অতিরিক্ত সার পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গার বাফার গোডাউনের ইনচার্জ অহিদুর রহমান জানান, চলতি মাসে জেলার ১২৬ জন ডিলারের মাধ্যমে মোট ১০ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। সুতরাং জেলাজুড়ে সারের কোনো ধরনের ঘাটতি নেই।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে জেলায় সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কোনো অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালালে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।