বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে আকস্মিক এক পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় একটি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস গভীর পুকুরে উল্টে পড়ার বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। রোববারের এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাসের অন্তত ১৫ জন যাত্রী গুরুতর ও সাধারণ আহত হয়েছেন। তবে স্থানীয় এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের যৌথ এবং তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযানের কারণে বড় ধরনের প্রাণহানির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় উপজেলা দশমিনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী পরিবহন ‘দশমিনা এক্সপ্রেস’ বাসটি বরিশালের বিমানবন্দর থানাধীন ছয়মাইল মল্লিকবাড়ি এলাকায় পৌঁছায়। ঠিক সেই মুহূর্তেই মহাসড়কের ওপর হঠাৎ এক পথচারী অসাবধানতাবশত রাস্তা পার হতে যান। আকস্মিক ওই পথচারীকে সরাসরি ধাক্কা দেওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে বাসের চালক মুহূর্তের মধ্যে জরুরি ব্রেক কষেন। কিন্তু অতিরিক্ত গতির কারণে চালক আর যানবাহনটির ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারেননি। নিয়ন্ত্রণহীন বাসটি মুহূর্তের মধ্যে সড়ক থেকে ছিটকে গিয়ে পাশের একটি গভীর পুকুরে সজোরে উল্টে পড়ে এবং এর অর্ধেক অংশ পানিতে ডুবে যায়।
বাসটি পুকুরে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভেতর থেকে যাত্রীদের বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার ও কান্নাকাটির আওয়াজে চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। দুর্ঘটনার তীব্রতা দেখে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে আশপাশের সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় যুবকরা দ্রুত উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। একই সঙ্গে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি চৌকস দল দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। স্থানীয়দের সাহসিকতাপূর্ণ অংশগ্রহণ এবং ফায়ার সার্ভিসের পেশাদার উদ্ধার পদ্ধতির কারণে বাসের দরজা ও জানালা দিয়ে আটকে পড়া যাত্রীদের নিরাপদে বাইরে বের করে আনা সম্ভব হয়।
উদ্ধার হওয়া আহত যাত্রীদের মধ্যে হাত-পা ভাঙাসহ গুরুতর জখম হওয়া বেশ কয়েকজনকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকি সামান্য আহত যাত্রীদের স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাখাওয়াত হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, বাসটি পুকুরে উল্টে যাওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়। আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় এখন পর্যন্ত এই দুর্ঘটনায় কোনো যাত্রীর প্রাণহানির সংবাদ পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসটিকে পুকুর থেকে নিরাপদ দূরত্বে তোলার জন্য ক্রেন ব্যবহারের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে মহাসড়কে বেপরোয়া গতি রোধ এবং সাধারণ পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের বিষয়ে চালকদের আরও বেশি সতর্ক থাকার তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রশাসন।









