ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তাহমিনা আক্তার (৪০) নামের এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার সাইদুর রহমানের স্ত্রী তাহমিনা গত ১০ সেপ্টেম্বর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। গত শনিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই দুঃখজনক ঘটনার মধ্য দিয়ে চলতি বছরে এই বিশেষায়িত হাসপাতালে ডেঙ্গু সংক্রমণে মারা যাওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছেছে।
হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. মোস্তফা ফয়সাল সংবাদমাধ্যমকে জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসা কেন্দ্রটি। গত ২৪ ঘণ্টার তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ডেঙ্গুর তীব্র উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ৫৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই দিনে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৬৭ জন রোগী। তবে বিভিন্ন ওয়ার্ডে এখনো মোট ১৩৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ১২৩ জন ডেঙ্গু রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ময়মনসিংহ অঞ্চলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের এই সময়ে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পায়। তবে এ বছর আক্রান্তের হার গতবারের তুলনায় উদ্বেগজনকভাবে বেশি। নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে রোগীরা উন্নত চিকিৎসার জন্য এই মেডিকেলে আসেন। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসায় শারীরিক জটিলতা বৃদ্ধি পায় এবং জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে।
এডিস মশার বিস্তার রোধে সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো এবং সচেতনতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে। তবুও জনসাধারণের অসচেতনতার কারণে বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করছে ডেঙ্গুবাহী মশা। চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষকে মশারি ব্যবহার করার এবং জ্বর আসার সঙ্গে সঙ্গে রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছেন। সচেতনতা এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা গ্রহণই কেবল এই প্রাণঘাতী রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে।









