খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই জুলাই ২০২৬, ৮:১৮ পিএম

খুলনায় সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং উন্মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে ঘটনাটির দ্রুত, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি জানায়, সাংবাদিকদের ওপর সশস্ত্র হামলার মতো ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়; এটি সামগ্রিকভাবে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের পরিবেশ, পেশাগত নিরাপত্তা এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকারের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সংস্থাটি বলছে, এ ধরনের ঘটনার কার্যকর বিচার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে ভয় ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, হামলাটি কোনো নির্দিষ্ট সাংবাদিককে লক্ষ্য করে বা কোনো বিশেষ সংবাদ প্রকাশের জেরে সংঘটিত হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের সশস্ত্র হামলা যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।
তিনি বলেন, তদন্তে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক বা অন্য কোনো প্রভাব যেন কাজ না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কালক্ষেপণ না করে হামলাকারী, পরিকল্পনাকারী এবং নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তাঁর ভাষায়, কেবল একটি মামলা দায়ের করাই যথেষ্ট নয়; বরং হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য, এর পেছনের পরিকল্পনা, কারা এতে জড়িত এবং সাংবাদিকদের পেশাগত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্য উত্তর বের করে আনতে হবে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান সতর্ক করে বলেন, অতীতের অনেক ঘটনার মতো যদি এ হামলারও সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হয়, তাহলে সেটিও বিচারহীনতার দীর্ঘ তালিকায় যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে। এমন পরিস্থিতি অপরাধীদের উৎসাহিত করবে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়িয়ে তুলবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি উল্লেখ করেছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী হামলার শিকার সাংবাদিকেরা শুরুতে মামলা করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। সংস্থাটির মতে, এই অনাগ্রহ কোনো সাধারণ বিষয় নয়; বরং এটি সাংবাদিকদের মধ্যে বিদ্যমান ভয়, নিরাপত্তাহীনতা এবং প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কার প্রতিফলন।
এ প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ভুক্তভোগীরা যদি ন্যায়বিচার চাইতেও ভয় পান, তাহলে সেটি বিচারব্যবস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি আস্থার সংকটের ইঙ্গিত দেয়। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং নজরদারি ব্যবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা অসম্ভব হওয়ার কথা নয়। তাই অপরাধীদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
টিআইবি আরও বলেছে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্বাধীন, অনুসন্ধানী ও জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে। এর ফলে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশে অনীহা তৈরি হতে পারে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
সংস্থাটি মনে করে, সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ভয়ের সংস্কৃতি দূর করে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সংবাদকর্মীরা কোনো ধরনের চাপ বা নিরাপত্তাহীনতা ছাড়াই পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
মন্তব্য