খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই জুলাই ২০২৬, ১১:৪ পিএম

সীমানা কিংবা ভাষার প্রাচীর যে ভালোবাসার আবেগের কাছে কত সহজে পরাস্ত হতে পারে, তার আরও একটি জীবন্ত উদাহরণ দেখল শরীয়তপুরবাসী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গড়ে ওঠা দীর্ঘ চার বছরের প্রেমের সম্পর্ককে এক ছাদের নিচে আনতে পাকিস্তান থেকে সুদূর জাজিরায় ছুটে এসেছেন এক যুবক। গত শনিবার (১১ জুলাই) পারিবারিকভাবে ধর্মীয় রীতি মেনে বাংলাদেশি তরুণীকে বিয়ে করেছেন তিনি। বর্তমানে এই নবদম্পতি একসঙ্গে পাকিস্তানে পাড়ি জমানোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অদ্ভুত ও রোমাঞ্চকর এই বিয়েকে কেন্দ্র করে পুরো জাজিরা উপজেলায় এখন কৌতূহল ও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বরের নাম মোজাম্মেল হোসাইন (২৬)। তিনি পাকিস্তানের লাহোর শহরের একটি মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। অন্যদিকে কনে তানজিলা আক্তার (১৯) শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের স্টাপল্টন শিকদার কান্দি এলাকার বাসিন্দা রমিজ উদ্দিনের মেয়ে।
আজ থেকে প্রায় চার বছর আগে ফেসবুকে তানজিলা ও মোজাম্মেলের প্রথম জানাশোনা ঘটে। এরপর মেসেঞ্জারে আলাপচারিতার মধ্য দিয়ে তা ধীরে ধীরে গভীর প্রণয়ে রূপ নেয়। দিন যত গড়িয়েছে, তাঁদের পারস্পরিক বন্ধন ততই মজবুত হয়েছে। একটা সময় নিজেরা ঘর বাঁধার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। সেই লক্ষ্যেই দীর্ঘ বিমান পথ পাড়ি দিয়ে গত ১১ জুলাই মোজাম্মেল সরাসরি জাজিরায় তানজিলার গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছান। কনের বাড়িতে দুই পরিবারের সম্মতি ও উপস্থিতিতে স্থানীয় ইমামের মাধ্যমে শরিয়াহ অনুযায়ী অত্যন্ত আনন্দের সাথে তাঁদের বিয়ের মূল পর্বটি সম্পন্ন হয়।
গতকাল মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) তানজিলার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় পরম এক আনন্দের পরিবেশ। ঘরের নতুন জামাই ও মেয়েকে ঘিরে স্বজনদের মাঝে ছিল দারুণ উচ্ছ্বাস। তানজিলার মা আসমা আক্তার জানান, বিয়ের আগে থেকেই জামাই মোজাম্মেল ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সাথে তাঁরা নিয়মিত ভিডিও কলে যোগাযোগ রাখতেন। ছেলের পাসপোর্ট, ভিসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় আইনি কাগজপত্রও তাঁরা নিজেদের উদ্যোগে যাচাই-বাছাই করে নিয়েছেন। একমাত্র মেয়েকে এত দূরে ভিনদেশে পাঠিয়ে দিতে মায়ের মনে কিছুটা কষ্ট ও ব্যাকুলতা কাজ করলেও, পাত্রের পরিবারের সার্বিক অবস্থান এবং সুন্দর ব্যবহারে তাঁরা আশ্বস্ত হয়েছেন।
তবে এই ভিনদেশি বিয়ে নিয়ে স্থানীয় মহলে কিছুটা উদ্বেগ ও আশঙ্কার গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা কিছুটা সংশয় প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিয়ের নামে বিদেশে নিয়ে গিয়ে নিরীহ মেয়েদের মানবপাচারের শিকার বানানোর বেশ কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনা গণমাধ্যমে এসেছে। যেহেতু বরের পরিবারের কোনো জ্যেষ্ঠ অভিভাবক এই বিয়েতে সশরীরে হাজির হতে পারেননি, তাই তানজিলাকে পাকিস্তানে পাঠানোর আগে বরের স্থায়ী পরিচয় ও নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই করা উচিত।
পাকিস্তানি যুবকের জাজিরায় এসে বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হতেই তৎপর হয়ে উঠেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ এ বিষয়ে বলেন:
“বিষয়টি সম্পর্কে স্থানীয় থানা পুলিশ আগে থেকে সুনির্দিষ্টভাবে অবগত ছিল না। তবে খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনার খোঁজখবর নিতে শুরু করেছি। ঘটনাটি যেহেতু ভিন্ন রাষ্ট্র ও নিরাপত্তার সাথে জড়িত, তাই বরের পাসপোর্ট, ভিসা এবং বিয়ের সমস্ত বৈধ ও আইনি কাগজপত্র যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো ধরনের সন্দেহজনক অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তদন্ত অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আপাতত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও নবদম্পতির সামগ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে স্থানীয় পুলিশ পুরো বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে।
মন্তব্য