দেশের প্রবাসী আয়ে হঠাৎ কিছুটা ভাটা পড়েছে। টানা ছয় মাস ধরে প্রতি মাসে ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসার পর সদ্য বিদায়ী জুন মাসে তা ৩ বিলিয়নের নিচে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৮০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। মে মাসের তুলনায় এই মাসে প্রবাসী আয় কমেছে প্রায় ৬১ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মে মাসে প্রবাসীরা রেকর্ড ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন। এমনকি গত বছরের (২০২৫ সালের) জুন মাসের তুলনায়ও এবারের সংগ্রহ ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার কম। তবে জুনে এই পতন সত্ত্বেও পুরো অর্থবছরের সামগ্রিক চিত্র দেশের অর্থনীতির জন্য বেশ স্বস্তিদায়ক।
অর্থবছরের মাসভিত্তিক প্রবাসী আয়ের চিত্র
চলতি অর্থবছরের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রবাসী আয়ের গতি ছিল বেশ চাঙ্গা। ডিসেম্বর থেকে মে—এই টানা ছয় মাস রেমিট্যান্সের প্রবাহ ৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ধরে রেখেছিল। নিচে বিগত মাসগুলোর একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:
ডিসেম্বর: ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার
জানুয়ারি: ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার
ফেব্রুয়ারি: ৩ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলার
মার্চ: ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার (সর্বোচ্চ)
এপ্রিল: ৩ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার
মে: ৩ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার
জুন: ২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার
অর্থবছরের শেষ মাসে এসে এই সুবাতাসে কিছুটা ধাক্কা লাগে এবং রেমিট্যান্সের অঙ্ক ২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।
সামগ্রিক অর্জনে বড় লাফ
জুন মাসের মন্দাভাব বাদ দিলে পুরো অর্থবছরে রেমিট্যান্সের অর্জন ছিল চোখে পড়ার মতো। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে মোট ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। এর আগের অর্থবছরে (২০২৪-২৫) এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, বছরের ব্যবধানে দেশের প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, জুন মাসে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার পেছনে প্রধানত দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, ঈদুল আজহার আগে মে মাসে প্রবাসীরা পরিবার-পরিজনের কাছে রেকর্ড পরিমাণ টাকা পাঠিয়েছিলেন, যার কারণে জুন মাসে স্বাভাবিকভাবেই প্রবাহ কিছুটা কমেছে। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের মৌসুমী পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের ওঠানামাও এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই পতনকে তারা সাময়িক বলেই দেখছেন। আগামী মাসগুলোতে রেমিট্যান্সের এই ধারা আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুরো অর্থবছরের এই শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে, আমদানি ব্যয় মেটাতে এবং টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে বড় ধরনের অবদান রাখবে।









