খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুন ২০২৬, ১১:৫ পিএম

ইংলিশ ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার এবং অধিনায়ক বেন স্টোকসের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বিদায়ী মঞ্চটি বিষাদে রূপ নিল। ট্রেন্ট ব্রিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ টেস্টে ১৬০ রানের বড় ব্যবধানে হেরে গেছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। এই পরাজয়ের ফলে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতে নিল সফরকারী নিউজিল্যান্ড। মাঠের লড়াইয়ে স্টোকস নিজের শেষ ম্যাচে লড়াই করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের গ্লানি নিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে হলো এই তারকাকে।
পঞ্চম দিনে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য ছিল ৩৭৩ রানের এক বিশাল পাহাড়। কিন্তু কিউই বোলার ও ফিল্ডারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সের সামনে মাত্র ২১২ রানেই গুটিয়ে যায় ইংলিশদের দ্বিতীয় ইনিংস। ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় নিউজিল্যান্ডের জন্য এই জয়টি এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ২০টি দ্বিপাক্ষিক টেস্ট সিরিজের দীর্ঘ ইতিহাসে ইংল্যান্ডের মাটিতে এটি নিউজিল্যান্ডের মাত্র চতুর্থ সিরিজ জয়। একই সঙ্গে ২০১২ সালের পর ঘরের মাঠে তিন বা তার বেশি ম্যাচের কোনো টেস্ট সিরিজে এই প্রথম হারের স্বাদ পেল ইংল্যান্ড।
ম্যাচের শেষ দিনে চোটে জর্জরিত নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণকে দারুণভাবে ব্যাক-আপ দিয়েছেন তাদের ফিল্ডাররা। অসাধারণ কিছু ক্যাচ আর নিখুঁত থ্রোতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি কিউইদের হাতে চলে যায়। বিশেষ করে হেনরি নিকোলসের একটি সরাসরি থ্রোতে সাজঘরে ফিরতে হয় অভিজ্ঞ ব্যাটার জো রুটকে। এরপর মিচেল স্যান্টনারের দুর্দান্ত এক থ্রোতে রান আউটের শিকার হন জশ টং। শেষ দিকে মিডল অর্ডারে জেমি স্মিথ ৬০ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেলে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে বাঁহাতি স্পিনার স্যান্টনারের বলে নাথান স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে স্মিথ আউট হলে নিউজিল্যান্ডের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত হয়।
এই টেস্টে নিউজিল্যান্ডের জয়ের ভিত তৈরি হয়েছিল তাদের প্রথম ইনিংসেই। টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে রান পাহাড় গড়েছিল কিউইরা। দুই টপ অর্ডার ব্যাটার ডেভন কনওয়ে ও টম ল্যাথামের ব্যাট থেকে আসে দুটি দুর্দান্ত দেড় শতাধিক রানের ইনিংস। কনওয়ে খেলেন ১৫৭ রানের ঝকঝকে ইনিংস এবং ল্যাথাম করেন ১৫১ রান। ইংল্যান্ডের হয়ে বল হাতে নিজের শেষ টেস্টে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট শিকার করেন বেন স্টোকস।
জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড তোলে ৩৫৪ রান, যেখানে বেন ডাকেট ১১৩ রানের এক চমৎকার সেঞ্চুরি করেন এবং তরুণ জ্যাকব বেথেল খেলেন ৭৪ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংসে নিউজিল্যান্ড ৯ উইকেটে ২৮৮ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করলে ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৭৩ রান। ড্যারিল মিচেলের অপরাজিত ১০০ এবং রাচিন রবীন্দ্রর ৯৪ রান কিউইদের এই বিশাল লিড এনে দেয়। জবাবে ২১২ রানে অলআউট হওয়া ইংল্যান্ডের পক্ষে জেমি স্মিথের ৬০ রান ছাড়া আর কেউ দাঁড়াতে পারেননি। নিউজিল্যান্ডের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩টি উইকেট নেন জ্যাক ফোকস। বিদায়বেলায় ম্যাচ হারলেও বেন স্টোকসের দীর্ঘ ক্রিকেটীয় অবদানকে গ্যালারিভর্তি দর্শক দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে সম্মান জানান।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউজিল্যান্ড: ৪৩৮ (ডেভন কনওয়ে ১৫৭, টম ল্যাথাম ১৫১; বেন স্টোকস ৪/৮২) ও ২৮৮/৯ ডিক্লে. (ড্যারিল মিচেল ১০০*, রাচিন রবীন্দ্র ৯৪)
ইংল্যান্ড: ৩৫৪ (বেন ডাকেট ১১৩, জ্যাকব বেথেল ৭৪) ও ২১২ (জেমি স্মিথ ৬০; জ্যাক ফোকস ৩/৪৫)
ফলাফল: নিউজিল্যান্ড ১৬০ রানে জয়ী এবং ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ী।
মন্তব্য