খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুন ২০২৬, ৩:২০ পিএম

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় একই দিনে পৃথক দুটি ঘটনায় দুই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৮ জুন) উপজেলার কৃষ্ণপুর ও ভাষানচর ইউনিয়নে ঘটে যাওয়া এ দুটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় ঘটনায় মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নিজগ্রাম এলাকার বাসিন্দা ওবায়দুল মুন্সীর স্ত্রী লিপি আক্তার (৪২) দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক অবসাদেও ভুগছিলেন। রোববার সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির গোয়ালঘরে গিয়ে তাকে আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। পরে দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়া হলে সদরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
পরিবারের সদস্যদের প্রাথমিক বক্তব্য ও ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম শুরু করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে।
একই দিন বিকেলে উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের ছমির হাজী কান্দি গ্রামেও আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। সেখানে বুলু মুন্সীর কন্যা নাছরীন আক্তার (১৩)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটবেলা থেকেই নাছরীন মানসিক ভারসাম্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।
রোববার বিকেলে তিনি খাবার না খেয়ে নিজ কক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেন। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তার মা নাজমা বেগম পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। তখন তারা নাছরীনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে সদরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
দুটি ঘটনাই একই দিনে এবং একই উপজেলায় ঘটায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনা পৃথকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সব দিক বিবেচনায় নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
এ বিষয়ে সদরপুর থানার উপপরিদর্শক আসাদুজ্জামান রিপন জানান, দুটি মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য