খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুন ২০২৬, ৩:১৭ পিএম

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে দেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২৯ জুন) ভোরে পৌরসভার হোগলাডাঙ্গী সদরদী এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় গুরুতর আহত স্বামীকে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে অভিযুক্ত নারীকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
আহত হানিফ শেখ (৩০) পেশায় একজন কসমেটিকস ব্যবসায়ী। তিনি ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদি ইউনিয়নের ব্রাহ্মণকান্দা গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত সুমাইয়া আক্তার সুমি নগরকান্দা উপজেলার ফুলসুতি ইউনিয়নের ফুলসুতি গ্রামের নুরুল ইসলাম সরদারের মেয়ে। তারা ভাঙ্গা পৌরসভার হোগলাডাঙ্গী সদরদী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করতেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার আগের রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। ভবনের মালিক, যিনি সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত, জানান যে পারিবারিক বিরোধের জেরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভোরে হানিফ শেখ ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সুমাইয়া একটি ধারালো ব্লেড দিয়ে তাঁর গোপনাঙ্গে আঘাত করেন।
হানিফ শেখের চিৎকার শুনে একই ভবনের অন্যান্য ভাড়াটিয়ারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
এদিকে, ঘটনার পর এলাকাবাসী অভিযুক্ত নারীকে পালিয়ে যেতে না দিয়ে আটকে রাখেন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে হেফাজতে নেয় এবং থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার পেছনে দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ এবং দাম্পত্য বিরোধ কাজ করেছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় কয়েকজন। স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহিদ জানান, হানিফ শেখের একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে তাঁর একাধিক স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ সৃষ্টি হতো।
অন্যদিকে, আটক সুমাইয়া আক্তার সুমি দাবি করেন, তাঁর স্বামী একাধিক বিয়ে করেছেন এবং এখনও বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রতিবাদ করলেই স্বামী তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। তিনি বলেন, মশা মারার কয়েলের আগুন দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো এবং নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন সহ্য করার পর ক্ষোভ থেকেই তিনি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।
তবে সুমাইয়ার এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের বক্তব্য, চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হবে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ৯৯৯ নম্বরে খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত নারীকে আটক করেছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পারিবারিক সহিংসতা, নির্যাতনের অভিযোগ এবং ঘটনার প্রকৃত পটভূমি—সবকিছুই তদন্তের আওতায় আনা হবে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য