আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে এক অভাবনীয় গতি সঞ্চার হয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের এই বিপুল প্রবাহ ডলারের বাজারকে স্থিতিশীল করার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকেও শক্তিশালী করছে। নিচে এই অর্থনৈতিক উন্নয়নের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হলো:
প্রবাসী আয়ের বৈপ্লবিক উল্লম্ফন: দিনে আসছে দেড় হাজার কোটি টাকা
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কাটিয়ে অবশেষে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম ১৪ দিনেই প্রবাসীরা ১৭০ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অবিশ্বাস্যভাবে প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ১২ কোটি ১৬ লাখ ডলার দেশে আসছে, যার দেশীয় বাজারমূল্য প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা।
রেমিট্যান্স ও রিজার্ভের তুলনামূলক পরিসংখ্যান
২০২৪ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ যখন ২৬ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল, তখন অর্থনীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে ২০২৫ সাল জুড়ে প্রবাসী আয়ের গতি সচল থাকায় বর্তমানে রিজার্ভ পুনরায় ৩২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
গত এক বছরের প্রবাসী আয়ের গতিপ্রকৃতি নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| সময়কাল | প্রবাসী আয়ের পরিমাণ (মার্কিন ডলার) | প্রবৃদ্ধির হার বা অবস্থা |
| ২০২৫-২৬ অর্থবছর (জুলাই–১৪ জানুয়ারি) | ১,৭৯৬ কোটি ডলার | ২১.৬% প্রবৃদ্ধি |
| পুরো ২০২৫ সাল (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) | ৩,২৮২ কোটি ডলার | ঐতিহাসিক রেকর্ড আয় |
| ডিসেম্বর ২০২৫ (এক মাস) | ৩২২ কোটি ডলার | মাসিক সর্বোচ্চ প্রবাহ |
| বর্তমান রিজার্ভ (জানুয়ারি ২০২৬) | ৩,২০০ কোটি ডলার (৩২ বিলিয়ন) | শক্তিশালী ও স্থিতিশীল |
| ডলারের বর্তমান বিনিময় হার | ১২২ – ১২৩ টাকা | গত বছরের চেয়ে স্থিতিশীল |
নির্বাচনের প্রভাব ও তহবিল সংগ্রহ
ব্যাংকার ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্সের এই হঠাৎ বৃদ্ধির পেছনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন প্রার্থীর নির্বাচনী খরচ এবং প্রবাসীদের সংগৃহীত তহবিল বৈধ পথে দেশে আসছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের দেশগুলো থেকে এই অর্থ আসার হার সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি, আগামী মার্চ মাসে পবিত্র রমজান ও ঈদ থাকায় প্রবাসীরা এখন থেকেই অগ্রিম অর্থ পাঠাতে শুরু করেছেন।
স্থিতিশীল ডলারের বাজার ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা
এক সময় ডলারের দাম ১২৮ টাকা পর্যন্ত উঠে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে গিয়েছিল। বর্তমানে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে ডলারের সংকট কেটে গেছে এবং দাম ১২২-১২৩ টাকায় স্থিতিশীল হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এখন নিয়মিত বাজার থেকে ডলার কিনে রিজার্ভের পরিমাণ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা আশা করছেন, নির্বাচনের আমেজ ও রমজান মাস মিলিয়ে আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।









