জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

জাতীয় গ্রিডে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সংকট, দুই দিনে উন্নতির আশা

বিদ্যুৎকেন্দ্রে আকস্মিক কারিগরি ত্রুটি এবং বঙ্গোপসাগরের বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়লা খালাস ব্যাহত হওয়ায় বড় ধরনের বিদ্যুৎ সংকটে পড়েছে দেশ। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে একযোগে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। এই ঘাটতির কারণে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

আজ রোববার (২৮ জুন, ২০২৬) জাতীয় সংসদে বিধি-৩০০ এর আওতায় দেওয়া এক বিবৃতিতে বিদ্যুৎমন্ত্রী দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও সংকটের মূল কারণ সংসদ সদস্যদের সামনে তুলে ধরেন।

সংসদে দেওয়া বিবৃতিতে মন্ত্রী জানান, একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারের টিউবে আকস্মিক লিকেজ (ছিদ্র) ধরা পড়েছে। এই কারিগরি ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটি জরুরি ভিত্তিতে সম্পূর্ণ বন্ধ বা ‘ফোর্সড শাটডাউন’ করতে হয়েছে। একই সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বঙ্গোপসাগরের উত্তাল আবহাওয়ার কারণে দেশের আরেকটি প্রধান কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জাহাজ থেকে কয়লা খালাস করার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জ্বালানি সংকটের কারণে ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি বড় ইউনিটও বর্তমানে উৎপাদনের বাইরে রয়েছে।

কারিগরি ও প্রাকৃতিক—এই দুই কারণে একসঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধাক্কা লেগেছে। এর ফলে জাতীয় সঞ্চালন ব্যবস্থায় হুট করেই প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াটের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আকস্মিক এই বিশাল ঘাটতি সামাল দিতে গিয়েই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, এমনকি বিভাগীয় শহর ও রাজধানীতেও কয়েক দিন ধরে তীব্র লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুৎমন্ত্রী সংসদে বলেন, চলমান এই পরিস্থিতি নিয়ে তিনি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ড. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিকে একটি সাময়িক ‘জাতীয় সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সংসদের সব সদস্য এবং দেশের সাধারণ জনগণের প্রতি ধৈর্য ধারণের বিশেষ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশবাসীকে সম্মিলিতভাবে এই সংকটকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন তিনি।

বিবৃতির শেষাংশে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ানরা নিরলসভাবে মেরামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী দুই দিনের মধ্যে দেশের এই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা ধীরে ধীরে একদম কমে আসবে।

বিদ্যুৎমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের পর অধিবেশনের সভাপতি ও সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রীর দেওয়া এই বিশেষ বিবৃতিটি বিধি-৩০০ মোতাবেক সংসদের অফিশিয়াল কার্যবিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন।

Tags :

Md. Sakib

Recent News