ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটের অত্যন্ত সুপরিচিত খেলোয়াড় এবং কর্নাটক রাজ্যের সাবেক পেসার এসএল অক্ষয় একটি স্থানীয় ম্যাচ চলাকালীন মাঠের মধ্যেই আকস্মিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন। বেঙ্গালুরুর একটি মাঠে খেলা চলাকালীন তিনি হঠাৎ তীব্র হৃদরোগে আক্রান্ত হন। ৩৯ বছর বয়সী এই ডানহাতি বোলার ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের বর্তমান ও সাবেক তারকা খেলোয়াড় লোকেশ রাহুল, রবীন উথাপ্পা এবং করুণ নায়ারদের এক সময়ের নিয়মিত সতীর্থ ছিলেন। অক্ষয়ের এই বেদনাদায়ক মৃত্যুর খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছেন ভারতীয় জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ডোড্ডা গণেশ। তাঁর এই অকাল প্রয়াণে কর্নাটকের সামগ্রিক ক্রীড়াঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃত্যুর ঘটনা ও তাৎক্ষণিক চিকিৎসা পরিস্থিতি
গত রবিবার ভারতের বেঙ্গালুরু শহরের কেআর পুরম অঞ্চলের একটি ক্রিকেট মাঠে স্থানীয় তৃতীয় বিভাগের একটি লিগ ম্যাচ চলছিল। ৩৯ বছর বয়সী এই পেসার ম্যাচটিতে নিজের দলের হয়ে মাঠে খেলছিলেন। খেলা চলাকালীন ফিল্ডিং করার সময় তিনি হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন এবং মাঠের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরিস্থিতি বিবেচনা করে মাঠে উপস্থিত সতীর্থ খেলোয়াড় এবং আয়োজকেরা খেলা স্থগিত রেখে তাঁকে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান যে, হাসপাতালে নিয়ে আসার পূর্বেই অক্ষয়ের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তীব্র হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়াই ছিল তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুর মূল কারণ। কর্নাটকের ক্রিকেট পরিমণ্ডলে অত্যন্ত মৃদুভাষী, বিনয়ী এবং সদা হাস্যোজ্জ্বল মানুষ হিসেবে অক্ষয়ের ব্যাপক পরিচিতি ও সুনাম ছিল।
নিচে এসএল অক্ষয়ের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণী ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| মৃত ক্রিকেটারের নাম | বয়স ও খেলার ধরণ | ঘটনার সুনির্দিষ্ট দিন ও স্থান | ঘটনার প্রকৃতি ও মূল কারণ | মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা |
| এসএল অক্ষয় | ৩৯ বছর, পেসার (বোলার) | গত রবিবার, কেআর পুরম মাঠ, বেঙ্গালুরু | ফিল্ডিং করার সময় বুকে তীব্র ব্যথা ও হৃদরোগ | হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বেই মৃত্যু |
ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলোয়াড়ি জীবন ও পরিসংখ্যান
এসএল অক্ষয় কর্নাটক রাজ্যের হয়ে ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রধান তিনটি সংস্করণেই পেশাদার ম্যাচ খেলেছেন। তিনি ভারতের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের মর্যাদাপূর্ণ আসর রঞ্জি ট্রফিতে কর্নাটক রাজ্যের মূল দলের হয়ে লোকেশ রাহুল, রবীন উথাপ্পা ও করুণ নায়ারের মতো বিশ্বমানের ভারতীয় ক্রিকেটারদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাঠে লড়াই করেছেন। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেললেও জাতীয় পর্যায়ের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি তেমন বড় কোনো সাফল্য বা জাতীয় দলের ডাক পাননি।
তিনি তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনে কর্নাটকের হয়ে মোট ৬টি প্রথম শ্রেণীর রঞ্জি ট্রফি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। এই ম্যাচগুলোতে বল হাতে তিনি মোট ১৮টি উইকেট শিকার করেন। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের পাশাপাশি তিনি ৩টি লিস্ট এ বা ৫০ ওভারের একদিনের ম্যাচ এবং ৯টি টি-টোয়েন্টি বা কুড়ি ওভারের সংক্ষিপ্ত ঘরোয়া ম্যাচ খেলেছেন। এর বাইরে তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে কর্নাটক রাজ্যের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা বা কর্নাটক প্রিমিয়ার লিগেও নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের হয়ে অংশ নিয়েছেন।
নিচে কর্নাটক রাজ্যের হয়ে এসএল অক্ষয়ের ঘরোয়া ক্রিকেট ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান ছকের মাধ্যমে প্রকাশ করা হলো:
| ঘরোয়া প্রতিযোগিতার ধরণ | মোট ম্যাচের সংখ্যা | সংগৃহীত মোট উইকেট | সতীর্থ তারকা খেলোয়াড়বৃন্দ | আঞ্চলিক টুর্নামেন্ট |
| রঞ্জি ট্রফি (প্রথম শ্রেণী) | ৬টি ম্যাচ | ১৮টি উইকেট | লোকেশ রাহুল, রবীন উথাপ্পা, করুণ নায়ার | কর্নাটক প্রিমিয়ার লিগ |
| লিস্ট এ (একদিনের ম্যাচ) | ৩টি ম্যাচ | তথ্য অপর্যাপ্ত | উথাপ্পা ও অন্যান্য সতীর্থ | কর্নাটক প্রিমিয়ার লিগ |
| টি-টোয়েন্টি (ঘরোয়া ম্যাচ) | ৯টি ম্যাচ | তথ্য অপর্যাপ্ত | রাহুল ও অন্যান্য সতীর্থ | কর্নাটক প্রিমিয়ার লিগ |
ক্রিকেট মহলের শোক প্রকাশ ও শেষ বিদায়
এসএল অক্ষয়ের এই আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ভারতের ক্রিকেট অঙ্গনে শোকের আবহ তৈরি হয়। কর্নাটক রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার বর্তমান সভাপতি এবং ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক কিংবদন্তি পেসার বেঙ্কটেশ প্রসাদ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি অক্ষয়ের পরিবার ও শোকসন্তপ্ত স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। কর্নাটক ক্রিকেট সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, অক্ষয় কেবল একজন ভালো বোলারই ছিলেন না, বরং মাঠ ও মাঠের বাইরে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল একজন আদর্শ খেলোয়াড় ছিলেন। তাঁর এই চলে যাওয়া কর্নাটকের উদীয়মান ক্রিকেটারদের জন্য একটি বড় ক্ষতি।
