সীতাকুণ্ডে ছুরিকাঘাতে পিতা নিহত, পুত্র আটক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে পুত্রের ছুরিকাঘাতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর এলাকার ৫ নম্বর ছিন্নমূল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম নুর উল্লাহ (৬৫)। তিনি কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার বাসিন্দা। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিবারের সঙ্গে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর ছিন্নমূল এলাকায় বসবাস করছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় সন্ধ্যায় পারিবারিক বিষয় নিয়ে নুর উল্লাহ ও তার পুত্র মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা উত্তপ্ত হয়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এ সময় পরিস্থিতি আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে তার পিতা নুর উল্লাহকে একাধিকবার আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আঘাতের পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় নুর উল্লাহকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থায় রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী অভিযুক্ত মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে তাকে ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়।

ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পারিবারিক কলহের জেরে ছুরিকাঘাতে আহত নুর উল্লাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত পুত্র মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিহতের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।

স্থানীয়রা জানান, ছিন্নমূল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি বসবাস করে আসছিল। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ধরনের পারিবারিক সহিংসতা ও আকস্মিক সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত অব্যাহত থাকবে।