চীনের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক অঞ্চলে ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি, সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে জনজীবনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৯ মে) পর্যন্ত পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত থাকায় উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয় এবং একাধিক এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা প্লাবিত ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে আটকে পড়া বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
দুর্যোগের কারণে বহু অঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বিভিন্ন এলাকার মধ্যে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কিছু স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ রয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
চীনের আবহাওয়া প্রশাসন জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতজনিত দুর্যোগের ঝুঁকি এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ত্রাণ, উদ্ধার এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমের জন্য ১৫ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর অবকাঠামো পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তায় ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগর, দক্ষিণ চীন সাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগর থেকে আগত আর্দ্র বাতাসের সংমিশ্রণে প্রায় এক হাজার কিলোমিটারজুড়ে এই ভারী বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলমান এই আবহাওয়াগত প্রভাব অঞ্চলটিতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চল এবং পাহাড়ি এলাকার মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে নতুন করে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়।
কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি সেবা ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
