সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন এবং একই পরিবারের সদস্যসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। বুধবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার আহসানমারা সেতু এলাকার কাছাকাছি এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি যাত্রীবাহী লেগুনা সুনামগঞ্জ শহর থেকে যাত্রী নিয়ে নিজ গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিল। পথে আহসানমারা সেতুর কাছে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির দূরপাল্লার বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় লেগুনাটি সড়কের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের এলাকায় ছিটকে পড়ে এবং যাত্রীরা গুরুতরভাবে আহত হন।
ঘটনাস্থলেই নিহত হন লেগুনার যাত্রী জাহেদ মিয়া (১৮), যিনি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের বাসিন্দা। গুরুতর আহত অবস্থায় লেগুনা চালক ইব্রাহিম মিয়া (২৫)-কে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে পথেই তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনিও মৃত্যুবরণ করেন।
এই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ছাতক উপজেলার সাদারাই গনিপুর গ্রামের আব্দুল জাহান (৪২), তার ছোট কন্যা লুৎফা বেগম (৫), তৌরিজ মিয়া (৫৫), তার স্ত্রী কল্পনা বেগম (৪৫) এবং আরও একজন যাত্রী আব্দুল জাহার (৪২)। আহতদের প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় বাসটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলছিল। হঠাৎ করেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লেগুনার ওপর সজোরে আঘাত হানে। সংঘর্ষের পর মুহূর্তেই এলাকায় চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয় এবং স্থানীয়রা উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। অনেকেই জানান, সড়কের ওই অংশটি সরু এবং বাঁকযুক্ত হওয়ায় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সড়কটিতে দীর্ঘদিন ধরে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে দূরপাল্লার যানবাহনগুলো নিয়ম ভঙ্গ করে দ্রুতগতিতে চলাচল করে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তারা সড়কটি প্রশস্তকরণ এবং পর্যাপ্ত গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনের দাবি জানান।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দুর্ঘটনায় দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারে চলছে কান্না ও আহাজারি। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| দুর্ঘটনার স্থান | আহসানমারা সেতু এলাকা, শান্তিগঞ্জ উপজেলা |
| দুর্ঘটনার সময় | বুধবার, দুপুর আনুমানিক ১টা |
| যানবাহন | যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনা |
| নিহতের সংখ্যা | ২ জন |
| আহতের সংখ্যা | ৫ জন |
| প্রধান কারণ | দ্রুতগতিতে চলাচল ও মুখোমুখি সংঘর্ষ |
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা ও যানবাহনের গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
