নতুন পাঁচ টাকার নোট বাজারে চালু

দেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্যের সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে নতুন নকশার পাঁচ টাকার কাগুজে নোট আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে ছাড়ল সরকার। মঙ্গলবার থেকে এ নতুন সিরিজের নোট প্রচলন শুরু হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এ নোট বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয় থেকে ইস্যু করা হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য শাখা থেকেও তা সরবরাহ করা হবে।

নতুন সিরিজের এই নোটটি আধুনিক নকশা ও উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে, যাতে জালিয়াতি প্রতিরোধ আরও কার্যকর হয় এবং নগদ লেনদেনের ওপর মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পায়। অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের স্বাক্ষরযুক্ত এ নোটের মাধ্যমে পুরোনো সিরিজের পাশাপাশি নতুন নকশার নোট ব্যবহারের ধারা শুরু হলো। সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নতুন নোট চালু হলেও বর্তমানে প্রচলিত সব কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রা সম্পূর্ণভাবে বৈধ থাকবে এবং বাজারে স্বাভাবিকভাবে চলবে।

নতুন পাঁচ টাকার নোটটির দৈর্ঘ্য একশ সতেরো মিলিমিটার এবং প্রস্থ ষাট মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। নোটটির সম্মুখভাগে বাম পাশে ঢাকার ঐতিহাসিক তারা মসজিদের চিত্র স্থান পেয়েছে, যা দেশের সমৃদ্ধ স্থাপত্য ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। মাঝখানে জাতীয় ফুল শাপলার প্রস্ফুটিত নকশা সংযোজন করা হয়েছে, যা জাতীয় পরিচয় ও নান্দনিকতার প্রতিফলন ঘটায়। নোটটির পেছনের অংশে দুই হাজার চব্বিশ সালের গ্রাফিতি ধাঁচের একটি চিত্র ব্যবহৃত হয়েছে, যা সমকালীন সামাজিক বার্তা ও আধুনিক শিল্পচর্চার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নতুন নোটে একাধিক আধুনিক নিরাপত্তা উপাদান যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখসংবলিত জলছাপ, যার নিচে উজ্জ্বল ইলেকট্রোটাইপে অঙ্কিত পাঁচ সংখ্যা ও সরকারি মনোগ্রাম রয়েছে। এছাড়া বাম পাশে দুই মিলিমিটার প্রশস্ত একটি নিরাপত্তা সুতা সংযোজন করা হয়েছে, যা আলোতে সহজেই দৃশ্যমান হবে। নোটের সম্মুখভাগের নিচের অংশে সূক্ষ্ম অক্ষরে বারবার “বাংলাদেশ” শব্দটি মুদ্রিত রয়েছে, যা নকল প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই নতুন প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেশের নগদ অর্থ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং জাল নোট তৈরির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে। পাশাপাশি দেশীয় ইতিহাস, স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক উপাদানকে নোটের নকশায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়ের একটি শক্তিশালী বার্তা প্রদান করা হয়েছে।

নতুন পাঁচ টাকার নোটের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়বিবরণ
নোটের মূল্যমানপাঁচ টাকা
নকশার বিষয়বস্তুঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য
সম্মুখভাগতারা মসজিদ ও শাপলা নকশা
পেছনের অংশদুই হাজার চব্বিশ সালের গ্রাফিতি চিত্র
আকারএকশ সতেরো মিলিমিটার × ষাট মিলিমিটার
জলছাপরয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ
নিরাপত্তা সুতাদুই মিলিমিটার প্রশস্ত
বিশেষ বৈশিষ্ট্যসূক্ষ্ম অক্ষরে নিরাপত্তা লেখা ও ইলেকট্রোটাইপ পাঁচ

সরকার আশা প্রকাশ করেছে, নতুন সিরিজের এই নোট প্রচলনের ফলে দেশের নগদ লেনদেন ব্যবস্থা আরও নিরাপদ, আধুনিক ও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে এটি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্থাপত্য ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরবে।