বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল টানা দুইবার দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পর এবার হ্যাটট্রিক শিরোপার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী ২৫ মে ভারতের গোয়ায় শুরু হতে যাওয়া সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে দলকে আরও সুসংগঠিত ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে বিদেশে উচ্চমানের প্রস্তুতি ক্যাম্প আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
ফেডারেশন সূত্রে জানা গেছে, এবার জাতীয় দলের প্রস্তুতি পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। দেশীয় ক্যাম্পের পাশাপাশি চীন অথবা থাইল্যান্ডে দুই সপ্তাহের একটি কন্ডিশনিং ক্যাম্প আয়োজনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য হলো খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্যাকটিক্যাল দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের অনুশীলন পরিবেশে অভ্যস্ত করা।
বাফুফে সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম জানিয়েছেন, বিদেশে ক্যাম্প আয়োজনের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত না হলেও আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে। তিনি বলেন, “আমরা দুই সপ্তাহের জন্য থাইল্যান্ড বা চীনে ক্যাম্প করার পরিকল্পনা করছি। ফিফা উইন্ডোর বাইরে থাকায় আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন কঠিন হবে, তবে স্থানীয় ক্লাব বা লিগ দলের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা করা হবে।”
এর আগে এশিয়ান কাপ ও অনূর্ধ্ব–২০ নারী এশিয়ান কাপের প্রস্তুতির সময়ও বিদেশে ক্যাম্প করার পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে এবার সাফের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট সামনে থাকায় ফেডারেশন বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রস্তুতির শুরু হবে দেশের ভেতরেই। দল প্রথমে চট্টগ্রামে ১০ দিনের একটি অনুশীলন ক্যাম্প করবে। সেখানে ফিটনেস, দলীয় সমন্বয় এবং কৌশলগত অনুশীলনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এরপর দল ঢাকায় ফিরে আরও দুই দিনের সংক্ষিপ্ত অনুশীলন করবে।
এরপরই চূড়ান্ত ধাপে বিদেশে ক্যাম্পে যাবে ঋতুপর্ণা চাকমা, মারিয়া মান্দা ও অন্যান্য সিনিয়র খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত দল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চীন বা থাইল্যান্ডে দুই সপ্তাহের এই ক্যাম্প শেষ করে দল আর দেশে ফিরবে না। সেখান থেকেই সরাসরি ভারতের গোয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে বাংলাদেশ নারী দল। সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ২১ বা ২২ মে নির্ধারণ করা হয়েছে।
এবারের সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। পাকিস্তান অংশ না নেওয়ায় এবার মোট ছয়টি দল অংশগ্রহণ করবে। ফলে প্রতিযোগিতার ফরম্যাট কিছুটা ছোট হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা কমবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বরং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে অন্য দলগুলো আরও প্রস্তুত হয়ে নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিচে বাংলাদেশ নারী দলের প্রস্তুতি পরিকল্পনার ধাপগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| ধাপ | বিবরণ |
|---|---|
| প্রাথমিক ক্যাম্প | চট্টগ্রামে ১০ দিন |
| দ্বিতীয় ধাপ | ঢাকায় ২ দিন অনুশীলন |
| বিদেশি ক্যাম্প | চীন বা থাইল্যান্ডে ২ সপ্তাহ |
| প্রস্তুতি ম্যাচ | স্থানীয় ক্লাব/দল (সম্ভাব্য) |
| টুর্নামেন্ট যাত্রা | ২১ বা ২২ মে সরাসরি গোয়া |
| টুর্নামেন্ট ভেন্যু | গোয়া, ভারত |
| অংশগ্রহণকারী দল | মোট ৬টি (পাকিস্তান নেই) |
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশে ক্যাম্প আয়োজন বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। চীন ও থাইল্যান্ডের মতো দেশের উন্নত ট্রেনিং অবকাঠামো ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিকভাবে আরও প্রস্তুত করে তুলতে পারে।
তাদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের অনুশীলন পরিবেশে খেলোয়াড়রা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, চাপের মধ্যে খেলা এবং উন্নত কৌশল প্রয়োগের সক্ষমতা অর্জন করতে পারবেন—যা সাফের মতো টুর্নামেন্টে বড় ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, টানা তৃতীয় সাফ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ নারী দলের প্রস্তুতিতে এবার আরও পরিকল্পিত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ছাপ স্পষ্ট। বিদেশে সফল ক্যাম্প আয়োজন করতে পারলে দলের আত্মবিশ্বাস ও পারফরম্যান্স—দুটিই নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
