গণপূর্ত অধিদপ্তরের আটজন শীর্ষ কর্মকর্তা আগামী ১৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রে সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং (এইচভিএসি) সিস্টেম ব্যবস্থাপনা শিখতে যাওয়ার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়েছেন। এটি ‘হিটিং, ভেন্টিলেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং (এইচভিএসি) সিস্টেম ট্রেনিং’ নামের অফিসিয়াল প্রোগ্রামের অংশ। সফরটি তিন দফা তারিখ পরিবর্তনের পর স্থায়ী করা হয়েছে।
Table of Contents
সফরের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য
সংবাদমাধ্যম কালবেলা’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য সরকারি কর্মকর্তাদের আধুনিক এইচভিএসি প্রযুক্তি পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা কৌশল শেখানো। সফরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালকও অংশগ্রহণ করবেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশিক্ষণ প্রয়োজনীয় হলেও প্রকল্পের বাস্তব চাহিদা ও খরচের অগ্রগতিতে যথাযথ সমন্বয় নেই। আইএমইডি’র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট এইচভিএসি প্রকল্প প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
ব্যয় ও বিতর্ক
এই সফরের প্রকল্প ব্যয় দুই দফায় বৃদ্ধি পেয়ে ২,৩৮৮ কোটি টাকা থেকে ৩,৪৪৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। সফরের খরচ বহন করবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডানহাম-বুশ, যা বিশ্বব্যাপী চিলার ও এইচভিএসি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন স্থানে সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সরবরাহ করেছে, যার মধ্যে বড় শপিংমলও অন্তর্ভুক্ত।
খরচ বহনের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, কারণ সরবরাহকারীর খরচে সফর করলে ভবিষ্যতে সরবরাহকৃত সিস্টেমের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এছাড়া সফরে যাওয়া কর্মকর্তাদের কেউ সরাসরি হাসপাতাল নির্মাণ বা রক্ষণাবেক্ষণে যুক্ত নন।
সফরে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের তালিকা
| ক্রমিক | কর্মকর্তা নাম | পদবী/পদমর্যাদা |
|---|---|---|
| ১ | আশরাফুল হক | অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম), গণপূর্ত অধিদপ্তর |
| ২ | কাজী মো. ফিরোজ হোসেন | অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল), গণপূর্ত অধিদপ্তর |
| ৩ | ড. মো. তৌফিক হাসান ফিরোজ | প্রকল্প পরিচালক |
| ৪ | ড. মো. আশরাফুল ইসলাম | তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদপ্তর |
| ৫ | মো. নাজমুল আলম | ডেপুটি সেক্রেটারি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় |
| ৬ | রাজু আহমেদ | নির্বাহী প্রকৌশলী |
| ৭ | সিদ্দিকা নাসরিন সুলতানা | নির্বাহী স্থপতি |
| ৮ | রিসালাত বারি | উপবিভাগীয় প্রকৌশলী |
সমালোচনা ও সম্ভাবনা
বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন যে, কর্মকর্তাদের এইচভিএসি প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রকল্পের বাস্তব প্রয়োজনে এবং ব্যয়ের অগ্রগতিতে সমন্বয় নেই। এতে সফরকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
তবে প্রশিক্ষণ কার্যকরভাবে সম্পন্ন হলে কর্মকর্তাদের আধুনিক এয়ার কন্ডিশনিং প্রযুক্তি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে ভবিষ্যতে সরকারি হাসপাতাল, বড় প্রকল্প এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ কাজে এই দক্ষতা প্রয়োগযোগ্য হবে, যা সরকারি সেবার মান বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।
