বিশ্ব ফুটবলের মহাযজ্ঞ শুরু হতে আর বেশি দেরি নেই। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উন্মাদনা। বিশেষ করে লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পে বা উদীয়মান তারকা লামিনে ইয়ামালদের মতো তারকাদের স্কোয়াডে থাকা নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ তুঙ্গে। তবে ইনজুরি বা ফর্মের কারণে নেইমার কিংবা ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোদের মতো তারকাদের দলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তাও কাজ করছে। ফুটবলপ্রেমীদের মূল কৌতূহল এখন একটি জায়গাতেই—অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দল কবে এবং কীভাবে তাদের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবে।
ফিফার নির্ধারিত সময়সূচি ও প্রক্রিয়া
২০২৬ সালের ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের জন্য ফিফা সুনির্দিষ্ট কিছু তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছে। দল গঠনের প্রক্রিয়াটি মূলত কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়।
১১ মে: প্রাথমিক স্কোয়াড বা প্রভিশনাল লিস্ট
সবগুলো দেশকে ১১ মে-র মধ্যে ফিফার কাছে প্রাথমিক একটি তালিকা জমা দিতে হবে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, এই তালিকায় সর্বনিম্ন ৩৫ জন এবং সর্বোচ্চ ৫৫ জন খেলোয়াড় রাখা যাবে। এর মধ্যে অন্তত চারজন গোলরক্ষক থাকা বাধ্যতামূলক। এই তালিকাটি মূলত একটি সংরক্ষিত ‘পুল’ হিসেবে কাজ করে। টুর্নামেন্ট চলাকালীন বা চূড়ান্ত দল ঘোষণার পর কোনো খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়লে, এই তালিকা থেকেই বিকল্প খেলোয়াড় বেছে নিতে হয়। ফিফা নিজ থেকে এই তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করবে না, তবে কোনো দেশ চাইলে ব্যক্তিগতভাবে তা প্রকাশ করতে পারে।
২৫ মে: ক্লাবগুলোর বাধ্যবাধকতা
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ক্লাবগুলোকে তাদের খেলোয়াড়দের জাতীয় দলের জন্য ছেড়ে দিতে হবে। ২৫ মে হচ্ছে এই খেলোয়াড় ছাড়ার নির্ধারিত সময়। তবে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, কনফারেন্স লিগ বা কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের ফাইনাল যেসব খেলোয়াড়ের থাকবে, তারা ফিফার বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে ৩০ মে পর্যন্ত ক্লাবের হয়ে খেলার সুযোগ পাবেন।
১ জুন: চূড়ান্ত তালিকা জমাদান
জাতীয় দলগুলোকে ১ জুনের মধ্যে ফিফার কাছে তাদের চূড়ান্ত স্কোয়াড জমা দিতে হবে। এই চূড়ান্ত দলে সর্বনিম্ন ২৩ জন এবং সর্বোচ্চ ২৬ জন খেলোয়াড় থাকতে পারবেন। এর মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে তিনজন গোলরক্ষক থাকতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল তাদের প্রথম ম্যাচ শুরু হওয়ার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত গুরুতর ইনজুরির কারণে খেলোয়াড় পরিবর্তন করতে পারবে, তবে সেই খেলোয়াড়কে অবশ্যই প্রাথমিক (৫৫ জনের) তালিকায় থাকতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ একনজরে
বিশ্বকাপ স্কোয়াড সংক্রান্ত ফিফার অফিসিয়াল সময়সূচি নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| তারিখ | কার্যক্রম/ঘটনা | বিবরণ |
| ১১ মে | প্রাথমিক স্কোয়াড জমা | সর্বনিম্ন ৩৫ থেকে সর্বোচ্চ ৫৫ জন খেলোয়াড় (৪ জন গোলরক্ষকসহ) |
| ২৫ মে | খেলোয়াড়দের ছাড়পত্র | ক্লাবগুলো থেকে জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার সময়সীমা |
| ১ জুন | চূড়ান্ত স্কোয়াড জমা | ২৩ থেকে ২৬ জন খেলোয়াড় (৩ জন গোলরক্ষকসহ) |
| ২ জুন | ফিফার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা | ৪৮টি দেশের চূড়ান্ত স্কোয়াড বিশ্বব্যাপী প্রকাশ করবে ফিফা |
ফেবারিট দলগুলোর সম্ভাব্য স্কোয়াড ঘোষণার তারিখ
ফিফা ২ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে সব দলের তালিকা প্রকাশ করলেও, শীর্ষস্থানীয় দলগুলো সাধারণত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আগেই তাদের স্কোয়াড জানিয়ে দেয়। বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যম ও ফুটবল ফেডারেশন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফেবারিট দলগুলোর সম্ভাব্য ঘোষণার তারিখ নিম্নরূপ:
ফ্রান্স: গতবারের রানার্সআপ ফ্রান্স সবার আগে ১৩ মে তাদের প্রাথমিক দল ঘোষণা করতে পারে।
ব্রাজিল: পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ১৮ মে তাদের স্কোয়াড ঘোষণা করার পরিকল্পনা করছে।
পর্তুগাল: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দল ১৯ মে তাদের স্কোয়াড ঘোষণা করতে পারে।
জার্মানি: জার্মানি ২১ মে তাদের চূড়ান্ত খেলোয়াড়দের তালিকা প্রকাশ করবে।
ইংল্যান্ড: থ্রি লায়ন্স খ্যাত ইংল্যান্ড ২২ মে স্কোয়াড ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে।
স্পেন: তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালের ইনজুরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে স্পেন ১ জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে।
আর্জেন্টিনা: বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের দল ঘোষণার সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফুটবল বিশ্বের এই নিয়ম ও সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২ জুনের মধ্যেই ফুটবলপ্রেমীরা নিশ্চিত হয়ে যাবেন প্রিয় দলের হয়ে কারা মাঠ মাতাবেন উত্তর আমেরিকার সবুজ গালিচায়। মূলত ইনজুরি এড়ানো এবং কৌশলগত কারণে অনেক কোচ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পছন্দ করেন, যা সমর্থকদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বজায় রাখে।
