হ্যাকাররা জাপান থেকে ১০ কোটি ডলার চুরি করল, এবারে জাপানের শীর্ষস্থানীয় ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ লিকুইড গ্লোবালের প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। এই ঘটনা দ্বিতীয় বৃহত্তম ঘটনা ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা চুরি হওয়ার। এর আগে ডিজিটাল মুদ্রার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে গত সপ্তাহে । চুরি হওয়া অর্থ বাংলাদেশের প্রায় ৮৫০ কোটি টাকার সমান (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে)। ক্ষতিগ্রস্ত ডিজিটাল মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানটি নিজেই অর্থ চুরি যাওয়ার ঘটনাটি প্রকাশ করেছে।

হ্যাকাররা জাপান থেকে ১০ কোটি ডলার চুরি করল
লিকুইড গ্লোবাল এক টুইটাবার্তায় বলেছে, ‘আমরা দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমাদের “ওয়ার্ম” বা “হট” ওয়ালেট থেকে প্রায় ১০০ মিলিয়ন (১২০ কোটি) ডলার চুরি হয়েছে। সে জন্য আমরা এখন আমাদের সম্পদ “কোল্ড” ওয়ালেটে রাখছি।’ ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত লিকুইড গ্লোবাল বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ১০০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সি তথা ভার্চ্যুয়াল মুদ্রার ব্যবসা করছে। কয়েনমার্কেট ক্যাপের মতে, দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ বিবেচনায় লিকুইড গ্লোবাল হচ্ছে বিশ্বের শীর্ষ ২০টি ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের একটি।
ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রার ব্যবসায় ‘ওয়ার্ম’ বা ‘হট’ ওয়ালেট হচ্ছে অনলাইনে চালু থাকা লেনদেনব্যবস্থা, যেখানে এই মুদ্রার কারবারিরা অনায়াসে প্রবেশাধিকার পান এবং লেনদেন করতে পারেন। আর ‘কোল্ড’ ওয়ালেট হচ্ছে অফলাইনব্যবস্থা। এটি সাধারণত বন্ধ থাকে এবং অধিকতর নিরাপদব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত।
এদিকে ব্লকচেইন অ্যানালিটিক ফার্ম এলিপটিক জানিয়েছে, তাদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হ্যা’কাররা বিটকয়েন ও ইথারিয়ান টোকেন মিলিয়ে লিকুইড গ্লোবালের প্রায় ৯৭ মিলিয়ন বা ৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার চুরি করেছে। লিকুইড গ্লোবাল অবশ্য জানিয়েছে, কীভাবে তাদের অর্থ সরানো হয়েছে, তা তারা চিহ্নিত করতে পেরেছে। এখন তারা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য এক্সচেঞ্জ হাউস বা ডিজিটাল মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলে কাজ করছে, যাতে খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধার করা যায়। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত লিকুইড গ্লোবাল বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ১০০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সি তথা ভার্চ্যুয়াল মুদ্রার ব্যবসা করছে। কয়েনমার্কেট ক্যাপের মতে, দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ বিবেচনায় লিকুইড গ্লোবাল হচ্ছে বিশ্বের শীর্ষ ২০টি ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের একটি।

গত সপ্তায় একজন হ্যাকার ব্লকচেইন সাইট পলি নেটওয়ার্কের ৬০ কোটি ডলার হাতিয়ে নেয়। এটাকে এ ধরনের মুদ্রা হাতিয়ে নেওয়ার বৃহত্তম ঘটনা বলে দাবি করে পলি নেটওয়ার্ক। তবে পরে ওই হ্যা’কার ৪২৭ মিলিয়ন বা ৪২ কোটি ৭০ লাখ ডলার ফেরত দেয়। পলি নেটওয়ার্ক লেনদেন স্থগিত করার কারণে বাকি অর্থ ফেরত দিতে পারেনি হ্যাকার। হ্যাকার যখন চুরি করে নেওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি ফেরত দেওয়ার কথা জানায়, তখন পলি নেটওয়ার্ক এতটাই খুশি হয় যে তারা ওই হ্যা’কারকে পুরস্কৃত করার কথা জানায়। হ্যাকারকে ৫ লাখ ডলার প্রদান ও চুরির দায় থেকে রেহাই দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় তারা।
লিকুইড গ্লোবালই একমাত্র জাপানি ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসায়ী নয়, যাদের অর্থ হ্যাকাররা চুরি করেছে। এর আগে ২০১৪ সালে জাপানের রাজধানী টোকিওর এমটিগক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধশত কোটি ডলারের বিটকয়েন চুরি হয়। সে ধাক্কা সামলাতে না পেরে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধই হয়ে যায়। এরপর ২০১৮ সালে কয়েনচেক নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের ৫৩ কোটি ডলার হাতিয়ে নেয় হ্যাকাররা।
সাম্প্রতিক সময়ে এটি হচ্ছে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা চুরি হওয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ঘটনা। এর আগে গত সপ্তাহে ডিজিটাল মুদ্রার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে। হ্যাকাররা তখন ব্লকচেইন সাইট পলি নেটওয়ার্কের সিস্টেমের একটি দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ৬০ কোটি ডলারের ডিজিটাল মুদ্রা হাতিয়ে নেয়।

আরও দেখুনঃ
- ৭৫-এর পর সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতার নাম শেখ হাসিনা : ওবায়দুল কাদের
- বিএনপির অনেক নেতা আওয়ামী লীগে যোগ দিতে আসেন : কাদের
- খুনী রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর জন্য মার্কিন সরকারের সহযোগিতা কামনা
- কাল জাতীয় শোক দিবস : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদত বার্ষিকী
- নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন : ওবায়দুল কাদের