ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামজনিত উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলমান এই সংকটে মোট মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২ জনে। একই সময়ে নতুন করে রোগী ভর্তির সংখ্যা আবারও বেড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মৃত শিশুটি ৭ মাস বয়সী একটি পুত্রসন্তান। তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার বৈলর এলাকায়। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে গত ১ জুন হামজনিত উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের মতে, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে জটিল হয়ে উঠেছিল এবং শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭ জন শিশু হামজনিত উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছে। এতে করে হাসপাতালে রোগীর চাপ আবারও বেড়েছে। গত ১৭ মার্চ থেকে আজ সকাল পর্যন্ত মোট ২ হাজার ২৭৯ জন শিশু একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ১৩০ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৯৭ জন শিশু।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশই নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে ছিল অথবা তাদের টিকা গ্রহণ সম্পূর্ণ হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান সম্পূর্ণ না হলে এমন সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।
বর্তমান পরিস্থিতির একটি সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট ভর্তি শিশু (১৭ মার্চ থেকে) | ২,২৭৯ জন |
| সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা শিশু | ২,১৩০ জন |
| বর্তমানে চিকিৎসাধীন শিশু | ৯৭ জন |
| মোট মৃত্যু | ৫২ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি | ১৭ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু | ১ জন |
হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টোর কর্মকর্তা ঝন্টু সরকার জানান, রোগীর চাপ এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তিনি বলেন, চিকিৎসক ও নার্সরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং প্রতিটি শিশুকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। তবে নতুন রোগী আসার কারণে ব্যবস্থাপনার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
হাসপাতাল প্রশাসন জানিয়েছে, শিশুদের জন্য পৃথক পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, শিশুদের মধ্যে জ্বর, র্যাশ বা হামজনিত কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে।
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতার অভাব এবং সময়মতো টিকা না নেওয়া এই ধরনের পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। তাদের মতে, দ্রুত এলাকাভিত্তিক টিকাদান কর্মসূচি জোরদার না করা হলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়বে।
বর্তমানে হাসপাতাল ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ উভয়ই চাপের মধ্যে রয়েছে। রোগীর সংখ্যা ওঠানামা করলেও মৃত্যুর ঘটনা জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।









