সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোতে ভয়াবহ বোমা হামলায় দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য এবং একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে সোমবার জানায় সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। হামলার জন্য কুর্দি বাহিনীকে দায়ী করা হচ্ছে।
সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় অবস্থিত আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি প্রশাসন এবং দামাস্কাস সরকারের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস’ জানিয়েছে, সিরিয়ার সরকারি বাহিনী আলেপ্পোর কুর্দি সংখ্যাগরিষ্ঠ শেখ মাকসুদ ও আশরাফিহ এলাকায় বিস্ফোরক ড্রোন ব্যবহার করেছে।
সংস্থাটির দাবি, ড্রোন হামলার পর ওই এলাকাগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেখানে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে।
গত বছর ডিসেম্বর মাসে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর, আলেপ্পো শহরটি নতুন ইসলামপন্থী কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে শেখ মাকসুদ ও আশরাফিহ এলাকা দুটি এখনও কুর্দি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যেখানে সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর অধীনস্থ ইউনিটগুলো কর্তৃত্ব করছে।
সিরিয়ান নিউজ চ্যানেল এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে,
“শেখ মাকসুদ এলাকার কাছে এসডিএফ-এর হামলায় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য নিহত ও আরও তিনজন আহত হয়েছেন।”
চ্যানেলটি আরও জানিয়েছে, কুর্দি গোলাবর্ষণে এক বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এসডিএফ-এর ভারী মেশিনগান ও মর্টার হামলার কারণে শেখ মাকসুদ ও আশরাফিহ এলাকা থেকে ডজনখানেক পরিবার পালিয়ে গেছে। আহতদের অনেককেই স্থানীয় বেসামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা।
আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম আল-গারিব ফেসবুকে শহরবাসীর উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছেন, “সকল নাগরিক যেন ঘরে অবস্থান করেন এবং সংঘর্ষময় অঞ্চল থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকেন।”
তিনি সব পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, এসডিএফ সরকারপন্থী বাহিনীর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, দামাস্কাসপন্থী গোষ্ঠীগুলো আলেপ্পোর কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলো ঘিরে ফেলেছে এবং ট্যাংক ব্যবহার করে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে।
এসডিএফ-এর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, এলাকাবাসীরা কুর্দি নিরাপত্তা বাহিনী ‘আসায়িশ’-এর সঙ্গে একত্রিত হয়ে অস্ত্র হাতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, যাতে তাদের অঞ্চলগুলোকে রক্ষা করা যায়।
সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র
| বিষয় | বিবরণ |
| ঘটনার স্থান | সিরিয়ার আলেপ্পো শহর |
| ঘটনার তারিখ | সোমবার (৬ অক্টোবর ২০২৫) |
| নিহত | ১ নিরাপত্তা সদস্য ও ১ বেসামরিক নাগরিক |
| আহত | অন্তত ৩ জন |
| অভিযুক্ত পক্ষ | কুর্দি বাহিনী (এসডিএফ) |
| প্রতিক্রিয়া দিয়েছে | জাতিসংঘ, রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ ও কুর্দি প্রশাসন |
| বর্তমান অবস্থা | শেখ মাকসুদ ও আশরাফিহ এলাকায় সেনা মোতায়েন ও জনগণের পালিয়ে যাওয়া |
| সূত্র | এএফপি, সানা, সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস |
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা দামাস্কাস ও কুর্দি প্রশাসনের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র করতে পারে, যা সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে নতুন সংঘর্ষের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
