যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মরদেহ ইতোমধ্যে ফিউনারেল হোমে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হয়েছে। আগামী সোমবার, ৪ মে সকালে তার মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল ফ্লোরিডার টম্পা বে এলাকার ইসলামিক সোসাইটিতে জামিল আহমেদ লিমনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
দূতাবাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডো থেকে শনিবার ২ মে রাত ৮টা ৫০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ০২২০ নম্বর ফ্লাইটে মরদেহটি রওনা দেবে। যাত্রাপথে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একটি ট্রানজিট থাকবে। পরে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ০৫৮২ নম্বর ফ্লাইটে মরদেহটি বাংলাদেশে আনা হবে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সোমবার ৪ মে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে মরদেহটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর মরদেহ তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মরদেহ পরিবহনের সময়সূচি
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রথম জানাজা | ৩০ এপ্রিল, টম্পা বে ইসলামিক সোসাইটি, ফ্লোরিডা |
| যুক্তরাষ্ট্র থেকে যাত্রা | ২ মে, রাত ৮:৫০ |
| প্রথম ফ্লাইট | এমিরেটস ০২২০ |
| ট্রানজিট | দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত |
| দ্বিতীয় ফ্লাইট | এমিরেটস ০৫৮২ |
| ঢাকায় পৌঁছানোর সময় | ৪ মে, সকাল ৮:৪০ |
| গন্তব্য | হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা |
জামিল আহমেদ লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার পর বিষয়টি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে এবং অনুসন্ধান শুরু হয়।
আট দিন পর, গত শুক্রবার হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছ থেকে জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। তবে একই ঘটনায় নিখোঁজ থাকা নাহিদা এস বৃষ্টির মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যানুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আদালতের নথিপত্র এবং পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং নৃশংস হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার পেছনের বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে। তবে নিখোঁজ নাহিদা এস বৃষ্টির সন্ধান এবং পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লিমনের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় মরদেহ গ্রহণ করবেন।