নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ব্যস্ততম বনপাড়া বাইপাস এলাকায় বাস কাউন্টারের নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও দফায় দফায় চলা এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে একটি চায়ের দোকান তছনছ করার পাশাপাশি সড়কে থাকা পাঁচটি মোটরসাইকেল পিটিয়ে ভাঙচুর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বেলা ১১টার দিকে বিআরটিসি বাসে যাত্রী ওঠানো ও কাউন্টারের দখল নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুটি গ্রুপের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বনপাড়া পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হোসেন আলী ফকিরের সমর্থকদের সঙ্গে পৌর ছাত্রদলের সদস্য সুজন খানের অনুসারীদের তুমুল বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে সেখানে থমকে গেলেও দুপুর ১২টার দিকে তা আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
বনপাড়া বাইপাসের পাবনা কাউন্টারের সামনে একটি চায়ের দোকানে হোসেন আলী ফকির সহ তার বেশ কয়েকজন সঙ্গী বসে ছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের ৪০ থেকে ৪৫ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আচমকা এই হামলায় চায়ের দোকানে থাকা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা রক্তাক্ত হন। হামলার ঘটনায় আশপাশের সাধারণ ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই দ্রুত দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান। হামলাকারীরা কেবল চায়ের দোকানটি ভাঙচুর করেই ক্ষান্ত হয়নি, বাইরে রাখা পাঁচটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করেন এবং চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসকরা জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আহতদের মধ্যে যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক:
হোসেন আলী ফকির (৫৭), সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, বনপাড়া পৌর বিএনপি
মমতাজউদ্দিন শেখ (৫৫), সভাপতি, বনপাড়া পৌর কৃষক দল
আকতার হোসেন (৫২), সভাপতি, বনপাড়া পৌর বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড
অন্যান্য চিকিৎসাধীন আহতরা হলেন:
আসলাম শেখ (৫০), বিএনপি কর্মী (বনপাড়া পাটোয়ারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি)
রবিউল ইসলাম মৃধা (৫০), সভাপতি, বনপাড়া পৌর বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ড
নাজমুল (৩৫), যুবদল কর্মী (প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণকারী)
সোহেল (৪৮), যুবদল কর্মী (প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণকারী)
রাজনৈতিক এই হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। ঘটনার বিষয়ে বনপাড়া পৌর বিএনপির আহ্বায়ক লুৎফর রহমান জানান, তিনি সাংগঠনিক প্রয়োজনে ঢাকায় রয়েছেন। তবে খবর পেয়েছেন যে পৌর ছাত্রদলের সদস্য সুজন খানের নেতৃত্বেই হোসেন আলী ও তার সঙ্গীদের ওপর এই হিংসাত্মক হামলাটি চালানো হয়েছে। তিনি আহতদের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে সুজন খান সম্পূর্ণ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, এই হামলার ঘটনায় তার বা তার কোনো লোকের বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই এবং এটি তার বিরুদ্ধে এক ধরনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।
খবর পেয়ে বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশের শক্ত অবস্থানের কারণে বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ টহল জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার মূল কারণ উদঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









