জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

সারা দেশে টানা পাঁচ দিন ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগেই বৃষ্টিপাত ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভারতের ঝাড়খণ্ড ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত একটি স্থল নিম্নচাপ এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ুর প্রবল সক্রিয়তার কারণে এই বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি, আবার কোনো কোনো অঞ্চলে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থান করা স্থল নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে যাচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি কিছুটা শক্তি হারিয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে রূপ নিতে পারে। বর্তমানে মৌসুমি বায়ুর অক্ষ ভারতের রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল পার হয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। ফলে উত্তর বঙ্গোপসাগরে যেমন বায়ুমণ্ডল উত্তাল রয়েছে, তেমনি বাংলাদেশের ওপরও মৌসুমি বায়ু পূর্ণ মাত্রায় সক্রিয়।

১৮ আগস্ট থেকে আগামী ২২ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ দিনের একটি সম্ভাব্য চিত্র সামনে এনেছে আবহাওয়া অফিস। ১৮ আগস্ট খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পরদিন ১৯ আগস্ট রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। ২০ আগস্টে বৃষ্টির এই বিস্তার আরও বেড়ে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বেশিরভাগ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর ২১ ও ২২ আগস্টে রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ধারাবাহিক বৃষ্টিপাত বা বজ্রবৃষ্টি অব্যাহত থাকবে।

একটানা ভারি বর্ষণের ফলে দেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে কিছু ঝুঁকির সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জেলাগুলোতে অতিভারি বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা থেকে যায়। পাহাড়ি অঞ্চলের নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। অন্যদিকে, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো জনবহুল বড় নগরগুলোতে টানা বৃষ্টিতে রাস্তাঘাটে জলজট সৃষ্টি হয়ে সাধারণ পথচারী ও চাকরিজীবীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে।

সমুদ্রের পরিস্থিতি প্রতিকূল থাকায় মাছ ধরার নৌযান ও ট্রলারগুলোকে গভীর সাগরে না গিয়ে উপকূলের কাছাকাছি সতর্কতার সাথে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। তবে বৃষ্টির আবহ থাকলেও এই চার-পাঁচ দিনে দিন ও রাতের তাপমাত্রায় খুব একটা বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই, তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। বর্ষার এই ধারাবাহিকতায় কৃষি খাতে বিশেষ করে রোপা আমনের জন্য সুবিধা হলেও শহরের প্রাত্যহিক কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা আসতে পারে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর