ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি সেচ খালের দুই পাড় থেকে শতাধিক গাছ কেটে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি শরিফুল ইসলাম উপজেলার জোড়াদহ ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি মিলে খালের দুই পাড়ে থাকা রেইনট্রি, শিশু, কাঁঠাল, শিমুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির বনজ ও ফলজ গাছ কেটে নিয়ে যান। এসব গাছ দীর্ঘদিন ধরে খালের পাড় রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছিল।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাতব্রিজ থেকে হরিশপুর পর্যন্ত এস-৩ এ সেচ খালের প্রায় ২ দশমিক ৬ কিলোমিটার অংশের মেরামত ও সংরক্ষণ কাজের জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরবর্তীতে ১১ মার্চ কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ওই খালের দুই পাড়ে আগে থেকেই বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ছিল, যা স্থানীয় পরিবেশ ও মাটির ক্ষয় রোধে সহায়ক ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে কোনো প্রকার নিলাম বা সরকারি অনুমোদন ছাড়াই গাছগুলো কেটে নিয়ে যাওয়া হয়। এ কাজে কাঠ ব্যবসায়ীরাও জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, খালের দুই পাড় জুড়ে অসংখ্য গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে এবং ডালপালা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, অন্তত তিন থেকে চার দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে গাছ কাটা হয়েছে।
থানায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি বড় গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে শিমুল ও রেইনট্রির মতো মূল্যবান গাছ। এসব গাছের আনুমানিক আর্থিক মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করছে, প্রকৃত গাছের সংখ্যা আরও বেশি, প্রায় দুই শতাধিক পর্যন্ত হতে পারে।
ঘটনার বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট অবস্থার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে দেওয়া হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | হরিণাকুণ্ডু উপজেলা, ঝিনাইদহ |
| খালের নাম | এস-৩ এ সেচ খাল |
| অভিযুক্ত | স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও সহযোগীরা |
| অভিযোগ | সরকারি খালের পাড়ের গাছ কেটে নেওয়া |
| গাছের প্রকার | রেইনট্রি, শিশু, কাঁঠাল, শিমুলসহ বনজ ও ফলজ |
| আনুমানিক সংখ্যা | ৫০ থেকে ২০০টিরও বেশি |
| আর্থিক ক্ষতি | প্রায় দেড় লাখ টাকা |
| আইনগত পদক্ষেপ | থানায় লিখিত অভিযোগ |
অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, গাছগুলো ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ছিল এবং মালিকদের কাছ থেকে ক্রয় করা হয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেচ খালের দুই পাড়ের গাছ সরকারি সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত এবং সেগুলো অনুমতি ছাড়া কাটা সম্পূর্ণ বেআইনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন প্রকৌশলী জানান, সরকারি খালের ভেতরে থাকা গাছসহ সব সম্পদ রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয় এবং এগুলো ধ্বংস বা অপসারণের কোনো অধিকার ব্যক্তিগতভাবে কারও নেই। তিনি আরও জানান, ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনও বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে। স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকাবাসী দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।