কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে যাত্রীবাহী বাস ও কলাবোঝাই নছিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে জাহান আলী (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়কে এ দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বাস ও নছিমনের যাত্রী রয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার কাতলামারী ও খলিসাকুন্ডী মাঠের মাঝামাঝি এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত জাহান আলী মিরপুর উপজেলার সদরপুর মাদ্রাসাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আয়ব আলীর ছেলে। তিনি ওই বাসে যাত্রী হিসেবে ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, কুষ্টিয়া থেকে মেহেরপুরের দিকে যাচ্ছিল একটি যাত্রীবাহী বাস। বাসটি দৌলতপুরের কাতলামারী ও খলিসাকুন্ডী মাঠের মাঝামাঝি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা কলাবোঝাই একটি নছিমনের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর বাস ও নছিমনের যাত্রীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনাস্থলেই জাহান আলীর মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন যানবাহনে গাংনী ও কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে কারও অবস্থা গুরুতর কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়কটি দৌলতপুরের সঙ্গে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই সড়কে যাত্রীবাহী যানবাহনের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের যানও চলাচল করে। ফলে ব্যস্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের সংঘর্ষে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। শুক্রবারের দুর্ঘটনাটিও এমন একটি মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় প্রাণহানি ও হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নিহত জাহান আলীর মরদেহ বর্তমানে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার দেওয়া হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার পর নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এবং সংঘর্ষের পরিস্থিতি সম্পর্কে পুলিশ পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবে।








