দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় অনুমোদিত সীমার বাইরে সার মজুত এবং অনিয়মের অভিযোগে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের ধারাবাহিক অভিযানে দুই দিনে মোট ১ হাজার ৫৭৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে তিনটি গুদামে অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্টদের ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে একটি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে। পাশাপাশি এক সার ডিলারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে প্রশাসন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) খানসামার পাকেরহাট এলাকায় বিএডিসি সার ডিলার মহিতোষ চন্দ্র চন্দের মালিকানাধীন ‘মেসার্স মহাদেব ট্রেডার্স’-এর গুদামে অভিযান চালানো হয়। সেখানে অনুমোদিত সীমার বাইরে মজুত রাখা ৪৫০ বস্তা সার জব্দ করা হয়। জব্দ সারের মধ্যে ৩৫০ বস্তা এমওপি এবং ১০০ বস্তা ডিএপি ছিল। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে গুদামটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
একই দিন উপজেলার টংগুয়া বাজারে বিসিআইসি সার ডিলার ‘মেসার্স আসাদুজ্জামান ট্রেডার্স’-এ অভিযান চালিয়ে আরও ২০৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৯৪ বস্তা ডিএপি, ৫৫ বস্তা ইউরিয়া এবং ৫৮ বস্তা এমওপি ছিল। অনিয়মের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাকেরহাট এলাকায় বিসিআইসি সার ডিলার মোজাহারুল ইসলামের মালিকানাধীন ‘মেসার্স রনি ট্রেডার্স’-এর গুদামে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে ৯২০ বস্তা সার পাওয়া যায়, যা জব্দ করে প্রশাসন। এর মধ্যে ৬৬০ বস্তা ডিএপি এবং ২৬০ বস্তা এমওপি ছিল। অভিযানের সময় ডিলার মোজাহারুল ইসলাম উপস্থিত না থাকায় এবং পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
দুই দিনের অভিযানে জব্দ হওয়া সারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৭৭ বস্তা। এর মধ্যে ডিএপি, এমওপি ও ইউরিয়া—তিন ধরনের সার রয়েছে। কৃষি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হওয়ায় সারের সরবরাহ ও বাজারব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হলে তার প্রভাব সরাসরি কৃষকদের ওপর পড়তে পারে। বিশেষ করে চাষের মৌসুমে নির্ধারিত দামের বাইরে সার বিক্রি বা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মজুতের অভিযোগ দেখা দিলে স্থানীয় পর্যায়ে সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুজ্জামান সরকার, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদনান কবির উদয় এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনোয়ার হোসেন। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) অয়ন ফারহান শামস, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তারসহ প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরকার বলেন, অভিযানে জব্দ করা সার রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হবে। পরে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সেগুলো স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হবে। বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, কৃষকদের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্যে এবং প্রয়োজনীয় সময়ে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে উপজেলার ডিলারদের গুদাম ও বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কোনো ডিলার বা ব্যবসায়ী অনুমোদিত সীমার বাইরে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে কিংবা কৃষকদের হয়রানি করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, সার মজুত ও বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে ডিলারদের একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও নির্দেশনা অমান্য করে অননুমোদিতভাবে সার মজুত রাখার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের এই অভিযানকে সারের বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জব্দ করা সার দ্রুত নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করা হলে একদিকে কৃষকের চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে, অন্যদিকে মজুতদারি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারির বার্তাও স্পষ্ট হবে।









