চট্টগ্রাম নগরীতে ট্রেনে কাটা পড়ে মো. রাহাত নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থী ও দেলোয়ার হোসেন মিন্টু (৫৫) নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে ষোলশহর রেলওয়ে ক্রসিং এলাকায় কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেসের নিচে পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, রেললাইনের ওপর থাকা শিশুটিকে বাঁচাতে গিয়ে দেলোয়ার হোসেন মিন্টু ট্রেনের নিচে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত রাহাতকে দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনায় শিশুটির এক হাত ও এক পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় দুই ঘণ্টা পর তার মৃত্যু হয়।
রাহাত নগরীর দুই নম্বর গেট মসজিদ গলি এলাকার একটি স্থানীয় মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তার বাবার নাম মো. ফারুক। পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর চটপটি খাওয়ার জন্য বাবার কাছে ২০ টাকা চেয়েছিল রাহাত। টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরই তার ট্রেনে আহত হওয়ার খবর পান পরিবারের সদস্যরা।
রাহাতের বাবা মো. ফারুক বলেন, ছেলের দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান তিনি। সেখানে রাহাতকে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ছেলের মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় রাহাত রেললাইন ধরে হাঁটছিল। এ সময় কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল পর্যটক এক্সপ্রেস। ট্রেনটি আসতে দেখে দেলোয়ার হোসেন মিন্টু শিশুটিকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য দ্রুত এগিয়ে যান। তিনি রাহাতকে ধাক্কা দিয়ে রেললাইন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় নিজেই ট্রেনের নিচে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
অন্যদিকে, ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত রাহাতকে আশপাশের লোকজন দ্রুত উদ্ধার করেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আঘাতের মাত্রা ছিল অত্যন্ত গুরুতর। শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি রেললাইন ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। রেলপথে হাঁটা বা প্রয়োজন ছাড়া রেললাইনের কাছে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে চলন্ত ট্রেন কাছাকাছি চলে এলে অল্প সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এ ঘটনায় শিশুটিকে বাঁচাতে এগিয়ে যাওয়া দেলোয়ার হোসেন মিন্টুও প্রাণ হারিয়েছেন।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন কুমার দে জানান, ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত দুজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।
একই ঘটনায় একজন শিশুর মৃত্যু এবং তাকে রক্ষা করতে গিয়ে আরেক ব্যক্তির প্রাণহানি এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ঘটনাটির প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।









