শিশু মৃত্যুর অভিযোগে ঢাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ

হামের প্রাদুর্ভাবে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যুর দায়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিচারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ছাত্রসংগঠন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। একই সঙ্গে সংগঠনটি হামের পরিস্থিতিকে ‘মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে তা সর্বাত্মকভাবে প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছে।

আজ বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্রতীকীভাবে শিশুদের মরদেহ প্রদর্শন করেন এবং হামের বিস্তার ও মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণেই বিপুলসংখ্যক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। তাঁরা বলেন, এই ঘটনায় তৎকালীন সরকারপ্রধান ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দায়বদ্ধতা রয়েছে এবং তাঁদের বিচারের আওতায় আনা উচিত।

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি দিলীপ রায় বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটিয়েছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য, কিন্তু হামের এই সংকট প্রাকৃতিক নয়, বরং মানবসৃষ্ট।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাতীয় সংসদে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও হামের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয় না। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক বিভিন্ন দলের অবস্থান নিয়েও সমালোচনা করা হয়।

সমাবেশে সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, সরকারকে অবিলম্বে হামকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করে তা প্রতিরোধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী ও বর্তমান কোনো প্রশাসনই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে হামের অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগে আপত্তি জানানোর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ছাত্রনেতাদেরও সমালোচনা করেন।

সংগঠনের অর্থ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি নুজিয়া হাসান রাশা বলেন, বর্তমান সরকারকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তাঁর বক্তব্যে তিনি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও নীতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

সমাবেশে বক্তারা সরকার ও বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সমাবেশে উত্থাপিত প্রধান দাবি ও অভিযোগ

বিষয়বিস্তারিত
প্রধান দাবিহামের প্রাদুর্ভাবকে মহামারি ঘোষণা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ
অভিযুক্ত ব্যক্তিবর্গসাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম
মৃত্যুর সংখ্যাসরকারি হিসাবে তিন শতাধিক শিশু
আক্রান্ত এলাকা৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টি
অভিযোগপ্রশাসনিক ব্যর্থতা ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব
কর্মসূচিশিশুদের প্রতীকী মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ

সমাবেশে বক্তারা হামের বিস্তার রোধে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেন এবং বিষয়টিকে জাতীয় গুরুত্বের জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান।