শাকিরার নতুন গান ‘ডাই ডাই’ ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম

বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্মাদনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছেন কলম্বিয়ান পপসম্রাজ্ঞী শাকিরা। আগামী ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপের ডামাডোল ইতিমধ্যেই বাজতে শুরু করেছে। সেই উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিতে শাকিরা নিয়ে আসছেন তার নতুন অফিশিয়াল গান ‘ডাই ডাই’। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের কালজয়ী গান ‘ওয়াকা ওয়াকা’ (দিস টাইম ফর আফ্রিকা)-র অভাবনীয় সাফল্যের পর এবার উত্তর আমেরিকার মাটিতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বমঞ্চ মাতাতে প্রস্তুত এই ল্যাটিন তারকা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নতুন গানের একটি টিজার প্রকাশের মাধ্যমে তিনি এই ঘোষণা দেন।

নতুন গানের টিজার ও নির্মাণ শৈলী

শাকিরা তার ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ‘ডাই ডাই’ গানের এক মিনিটের একটি ঝলক বা টিজার প্রকাশ করেছেন। ভিডিওটি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, “মারাকানা স্টেডিয়াম থেকে হাজির হলো ‘ডাই ডাই’, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল গান।” এই গানে শাকিরার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় নাইজেরিয়ান আফ্রোবিটস শিল্পী বার্না বয়।

ভিডিওচিত্রের দৃশ্যধারণ করা হয়েছে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী মারাকানা স্টেডিয়ামে। টিজারে শাকিরাকে দেখা যায় ফুটবল হাতে মাঠের মাঝখানে, যেখানে তার হাতে ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রিওন্ডা’। গানটির সংগীতায়জনে আফ্রিকান ড্রামস, লাতিন সুর এবং আরবান রিদমের এক চমৎকার সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে, যা বিশ্ব ফুটবলের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তোলে।

কোরিওগ্রাফি ও প্রতীকী অনুষঙ্গ

শাকিরার নতুন এই গানের ভিডিওতে ফুটবলের ইতিহাসকে চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ভিডিওর কোরিওগ্রাফিতে কেবল বর্তমান বিশ্বকাপের বল নয়, বরং ২০০৬, ২০১০ এবং ২০১৪ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বলগুলোকেও শৈল্পিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ভিডিওতে একদল নৃত্যশিল্পীকে দেখা যায়, যাদের পোশাকের রং বিভিন্ন দেশের জাতীয় ফুটবল দলের জার্সির থিম অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।

গানের প্রধান পঙক্তি বা কোরাসে বারবার ব্যবহৃত হয়েছে, ‘ডাই, ডাই, উই গো, দালে, আলে, লেটস গো।’ ভাষাবিদদের মতে, এখানে ‘ডাই’ (Dai) শব্দটি ইতালীয় ভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে, যার অর্থ ‘এগিয়ে যাও’ বা ‘চলো করি’। অন্যদিকে স্প্যানিশ শব্দ ‘দালে’ (Dale) এবং ‘আলে’ (Alle) ফুটবলের মাঠে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেওয়ার জন্য বহুল ব্যবহৃত অভিব্যক্তি। গানটি ইতিমধ্যে ফিফার অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টেও শেয়ার করা হয়েছে এবং ভিডিওর শেষে বার্তায় লেখা ছিল, “আমরা প্রস্তুত!”

বিশ্বকাপে শাকিরার ঐতিহাসিক পথচলা

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে শাকিরা একজন অপরিহার্য মুখ। তার সঙ্গীত ক্যারিয়ারের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে বিশ্বকাপের মঞ্চ।

  • ২০০৬ বিশ্বকাপ: জার্মানি বিশ্বকাপের ফাইনালে শাকিরা তার জনপ্রিয় গান ‘হিপস ডোন্ট লাই’ পরিবেশন করেছিলেন।

  • ২০১০ বিশ্বকাপ: দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং ‘ওয়াকা ওয়াকা’ তাকে বৈশ্বিক আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এই গানটি ইউটিউব ও মিউজিক চার্টে সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল।

  • ২০১৪ বিশ্বকাপ: ব্রাজিল বিশ্বকাপের জন্য তিনি ‘লা লা লা’ গানটি গেয়েছিলেন, যা ফুটবল ভক্তদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের মেগা ইভেন্টেও শাকিরা তার চতুর্থ বিশ্বকাপ থিম সং নিয়ে ফিরছেন। জানা গেছে, আগামী ১৪ মে গানটি সব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পাবে।

২০২৬ বিশ্বকাপ ও উদ্বোধনী ম্যাচের তথ্য

ফিফার পূর্বনির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী, আগামী ১১ জুন ২০২৬ থেকে শুরু হবে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ। এবারের বিশ্বকাপটি ঐতিহাসিক, কারণ এবারই প্রথম ৩টি দেশে (যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা) এবং ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে।

উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। ঐতিহাসিক এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা থেকে শুরু করে বিশ্বের বড় বড় সব পরাশক্তি এই আসরে অংশগ্রহণ করবে। আর এই পুরো আসরকে সুরের মূর্ছনায় মাতিয়ে রাখবেন শাকিরা ও বার্না বয়। ফুটবল ও সঙ্গীতের এই মেলবন্ধন বিশ্বকাপের উত্তেজনাকে যে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে, শাকিরার নতুন গানের টিজারটিই তার বড় প্রমাণ। ক্রীড়া বিশ্লেষক ও সঙ্গীত সমালোচকদের মতে, ‘ডাই ডাই’ গানটি ‘ওয়াকা ওয়াকা’-র মতোই আরেকটি বৈশ্বিক চার্টবাস্টার হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবল ভক্ত এখন ১৪ মে-র অপেক্ষায় রয়েছেন, যখন পূর্ণাঙ্গ গানটি পৃথিবীর মানুষের সামনে উন্মোচিত হবে।