জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই জুলাই ২০২৬, ১০:১৮ এএম

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী জহিরুল হাসান (জেড আই) খান পান্নার মেয়ে নাদিমা মোহাম্মদী খান (৩৯) বরিশালের সদর রোডে অবস্থিত নিজ পৈতৃক বাসভবনে একদল দুর্বৃত্তের হাতে সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হয়েছেন। জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধ এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির জেরে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। গত শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বরিশাল নগরের সদর রোড এলাকার ওই বাসভবনে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় নাদিমা মোহাম্মদী খান গুরুতর আহত হলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এই নৃশংস ঘটনার প্রেক্ষিতে গত রবিবার (১৯ জুলাই) ভোরের দিকে নাদিমা মোহাম্মদী খান বাদী হয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তার আপন চাচা নজরুল ইসলাম খানসহ মোট ৫ জনকে নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামি তানজিয়া চাঁদনিকে (৩৫) গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পারিবারিক ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নাদিমা মোহাম্মদী খানের পরিবারের সঙ্গে তার চাচা নজরুল ইসলাম খানের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গত শনিবার নাদিমা ও তার চাচাতো বোন ঢাকা থেকে বরিশালের সদর রোডের পৈতৃক বাড়িতে বেড়াতে আসেন। বাড়িতে পৌঁছে তারা লক্ষ্য করেন যে, কিছু বহিরাগত যুবক বাড়ির ভেতরের আঙিনায় ময়লা-আবর্জনা ফেলে নোংরা পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে। শুধু তাই নয়, সেখানে দলবেঁধে মাদক সেবন ও বেচাবিক্রির মতো সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড চলছিল।
নাদিমা ও তার বোন এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও আপত্তি জানালে উপস্থিত মাদকসেবী যুবকদের সঙ্গে তাদের প্রথম দফায় ব্যাপক বাগবিতণ্ডা হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই, ওই যুবকদের পক্ষে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ও সশস্ত্র দল লাঠিসোটা নিয়ে বাড়ির ভেতরে আকস্মিক প্রবেশ করে। তারা নাদিমা মোহাম্মদী খানের ওপর অতর্কিত ও হিংস্র হামলা চালায় এবং লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে তাকে রক্তাক্ত ও জখম করে। ভুক্তভোগীদের চিৎকার শুনে আশেপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করেন এবং হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
মামলার এজাহারে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হামলাকারীরা পূর্বেই নাদিমার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। সেই চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং মাদক সেবনের প্রতিবাদ করার কারণেই এই সুপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়।
আহত নাদিমা মোহাম্মদী খান গণমাধ্যমের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“আমাকে আমার ন্যায্য পৈতৃক সম্পত্তি থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করার জন্য এবং ভবিষ্যতে আমি যাতে আর কোনোদিন এই বাড়িতে পা রাখতে না পারি, সেই উদ্দেশ্যেই এই হামলা। আমার চাচা নজরুল ইসলাম খানের সরাসরি উসকানি, প্রশ্রয় এবং মদদেই এই মাদকসেবী ও অপরাধী চক্রটি আমার ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে।”
এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চাচা নজরুল ইসলাম খানের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, যার ফলে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নাদিমা মোহাম্মদী খানের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ এটিকে নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করেছে। এজাহারভুক্ত নারী আসামি তানজিয়া চাঁদনিকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিসহ অন্য পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে স্থানীয় সচেতন মহলের পক্ষ থেকেও জোর দাবি জানানো হয়েছে।
মন্তব্য