বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক পেসার শফিউল ইসলাম সুহাসের মা আর নেই। বুধবার, ১৯ আগস্ট সকালে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। মায়ের মৃত্যুর খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন শফিউলের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও জাতীয় দলের সাবেক পেসার রুবেল হোসেন।
শোকবার্তায় রুবেল হোসেন জানান, শফিউল ইসলামের মা কিছুক্ষণ আগে ইন্তেকাল করেছেন। প্রিয়জন হারানোর এই কঠিন সময়ে শফিউল ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি। একই সঙ্গে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়ার জন্য দোয়া করেন।
রুবেলের বার্তায় ব্যক্তিগত শোকের অনুভূতিও উঠে এসেছে। তিনি জানান, এই সংবাদ শুনে তাঁর হৃদয় ভারী হয়ে গেছে। জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে ক্রিকেট খেলা দুই পেসারের বন্ধুত্বের সম্পর্কও তাই এই শোকবার্তায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
শফিউলের মায়ের জানাজা তাঁর নিজ এলাকা বগুড়ায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন রুবেল। তবে বুধবার বিকেল পর্যন্ত জানাজার নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
শফিউল ইসলাম বাংলাদেশের ক্রিকেটে পরিচিত ডানহাতি পেসার। জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে কার্যকর গতি, লাইন-লেংথ এবং প্রয়োজনের সময়ে উইকেট তুলে নেওয়ার সামর্থ্যের কারণে তিনি দলের বিবেচনায় এসেছেন একাধিকবার।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের পেস বোলিং বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন শফিউল। তাঁর ক্রিকেটজীবনে উত্থান-পতন ছিল স্বাভাবিক। চোট, প্রতিযোগিতা এবং দলীয় সমন্বয়ের কারণে কখনো জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হলেও সুযোগ পেলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে তাঁর পারফরম্যান্স বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছিল। একই বছর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও ওয়ানডেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলার পাশাপাশি দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটেও দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন এই পেসার।
একজন পেশাদার ক্রিকেটারের জীবনে মাঠের সাফল্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পরিবারের সমর্থনও অনেক বড় শক্তি। দীর্ঘ ক্রিকেট ক্যারিয়ারে অনুশীলন, সফর, ম্যাচ এবং চোটের মতো নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হয় একজন খেলোয়াড়কে। সেই সময়ে পরিবারের মানুষের উপস্থিতি ও মানসিক সমর্থন অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই মায়ের মৃত্যু শফিউলের জন্য নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক এক ব্যক্তিগত মুহূর্ত।
মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর ক্রিকেটাঙ্গনের সতীর্থ, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। রুবেল হোসেনের শোকবার্তায়ও শফিউলের প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহমর্মিতার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
বগুড়ায় জানাজা শেষে মরহুমার দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে জানাজা ও দাফনের সময়সূচি সম্পর্কে পরিবারের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানানো হতে পারে।
মায়ের মৃত্যুতে শফিউল ইসলাম সুহাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি ক্রিকেটাঙ্গন, সতীর্থ এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। মহান আল্লাহ মরহুমাকে ক্ষমা করুন, তাঁর আত্মার মাগফিরাত দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দিন।









