ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফকে (৫৭) রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সোমবার রাতে এক বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে নাশকতার পরিকল্পনা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে নাসিরনগর থানায় একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুল ইসলাম গণমাধ্যমের কাছে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল খালেক বাদী হয়ে এই সন্ত্রাসবিরোধী মামলাটি দায়ের করেন। ওই মামলায় এজহারনামীয় আসামি হিসেবে আব্দুল লতিফকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার রাতের মধ্যেই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় এবং পরবর্তীতে মঙ্গলবার সকালে তাকে যথাযথ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই আব্দুল লতিফ আত্মগোপনে চলে যান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থানের সন্ধান পেয়ে পুলিশ রাজধানী ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে পাকড়াও করতে সক্ষম হয়।
এদিকে শীর্ষ স্থানীয় এই নেতার গ্রেপ্তারের খবর দ্রুত নাসিরনগরে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর উপজেলা পর্যায়ের প্রভাবশালী এই নেতার স্থাবর-অস্থাবর নানা বিষয়ে জনমনে নানা গুঞ্জন ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির নেপথ্যে তার সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই মামলায় আরও কারা জড়িত রয়েছেন, তা উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে তাদের এই অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।









