জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

রুবেলের বোলিং ও জিসানের ঝড়ে নেপালকে হারিয়ে জয়ী বাংলাদেশ এইচপি

ডারউইনের কন্ডিশনে দারুণ বোলিং ও বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সংমিশ্রণে নতুন মরশুমের টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে জয়ের রঙে অভিযান শুরু করল বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দল। বল হাতে অফস্পিনার মোহাম্মদ রুবেলের নিয়ন্ত্রিত স্পেল এবং পরবর্তীতে ব্যাটার জিসান আলমের আক্রমণাত্মক ইনিংসের ওপর ভর করে নেপাল ‘এ’ দলকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে তরুণদের এই দলটি। ৫৮ বল হাতে রেখে ৯ উইকেটের বিশাল জয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা প্রতিযোগিতার শুরুতেই নিজেদের শক্ত অবস্থানের কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিল।

অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনের বিখ্যাত মারারা স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ এইচপি দলের অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর। অধিনায়কের এই সিদ্ধান্তকে যথার্থ প্রমাণ করতে বোলাররা একটুও সময় নষ্ট করেননি। ম্যাচের প্রথম ওভার থেকেই বাংলাদেশি পেস ও স্পিন আক্রমণের সামনে দিকবিদিক শূন্য হয়ে পড়ে নেপালের টপ অর্ডার ব্যাটাররা। সঠিক লাইন-লেংথ বজায় রেখে করা নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে প্রতিপক্ষের টপ অর্ডার পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। দলীয় স্কোরবোর্ডে মাত্র ১৩ রান উঠতেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন দলের পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার।

দলের এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিনে একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়ে যান নেপালের ওপেনার কুশল ভুর্তেল। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলের মাঝে দাঁড়িয়ে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে দলের রান একশ কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালান তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে দলের সর্বোচ্চ ৪৬ রান। নিচের সারির ব্যাটারদের মধ্যে সাহাব আলম ১১ রান করেন এবং বিপিন খত্রী ১১ রানে অপরাজিত থাকেন। বাকিদের চরম ব্যর্থতায় নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৯৯ রানের বেশি তুলতে পারেনি নেপাল।

বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল। চার ওভারের কোটায় মাত্র ১৮ রান খরচ করে তিনি তুলে নেন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তার চমৎকার স্পেলই মূলত নেপালি মিডল অর্ডারের কোমর ভেঙে দেয়। বল হাতে অন্য সহযোদ্ধারাও যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন। সামিউন বাসীর, রিপন মণ্ডল ও রোহান উদ দৌলা একটি করে উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে একশ রানের ভেতরেই আটকে রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখেন।

জয়ের জন্য ১০০ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভার থেকেই প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর চড়াও হন দুই বাংলাদেশি ওপেনার। নেপালি বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে প্রথম দুই ওভারেই তুলে নেন ৩২ রান। দলের রান দ্রুত বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় ইনিংসের তৃতীয় ওভারে আউট হয়ে যান ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান। তবে সেই ধাক্কা দলীয় জয়ের গতিতে সামান্যতম প্রভাব ফেলেনি।

তিন নম্বরে নামা আরিফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান ওপর এক ওপেনার জিসান আলম। চোখধাঁধানো সব শটে চার-ছক্কার ফুলঝুরি ফুটিয়ে মাত্র ২৯ বলেই নিজের অর্ধশতক পূরণ করেন তিনি। জিসানের ৩টি চার ও ৫টি ছক্কায় সাজানো ৫১ রানের অপরাজিত ঝড়ো ইনিংসে জয় অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। অন্যপ্রান্তে বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিং করা আরিফুল ইসলাম ২৭ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থেকে দলের মাঠ ছাড়েন। দুই ব্যাটারের দারুণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে মাত্র ১০.২ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এই মর্যাদাপূর্ণ টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে এটি বাংলাদেশ এইচপি দলের তৃতীয় অংশগ্রহণ। আগের দুটি আসরের একটিতে তারা ফাইনালে উঠলেও অল্পের জন্য ট্রফি ছোঁয়া সম্ভব হয়নি। তবে এবার টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই অলরাউন্ড নৈপুণ্য প্রদর্শন করে শিরোপার জোরালো দাবিদার হিসেবে যাত্রা শুরু করল তারা। আসরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামীকাল একই ভেন্যুতে অস্ট্রেলিয়ান ফ্র্যাঞ্চাইজি দল হোবার্ট হারিকেনস একাডেমির মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ এইচপি দল।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর