জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

আসিয়ান কাপে ভারতের জায়গায় বাংলাদেশ, ফিফার অনুমোদন পেল বাফুফে

ইন্দোনেশিয়ার মাটিতে বসতে যাওয়া ফিফা আসিয়ান কাপে অংশ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ভারত প্রতিযোগিতাটি থেকে শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় সেই ফাঁকা জায়গায় খেলার সুযোগ তৈরি হয় বাংলাদেশের সামনে। ফুটবলের আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সবুজ সংকেত মেলার পর জাতীয় দলের অংশগ্রহণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে বাফুফে।

শনিবার (২২ আগস্ট) বাফুফের কার্যনির্বাহী কমিটির এক বিশেষ সভায় এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়। পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্ট। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় দলগুলোর সঙ্গে এবার মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের ঝালাই করে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ।

আসিয়ান কাপ থেকে ভারতের সরে দাঁড়ানোর পেছনে কাজ করেছে তাদের পূর্বনির্ধারিত আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা। আগামী ৩ অক্টোবর ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা শক্তি ব্রাজিলের বিরুদ্ধে একটি হাইভোল্টেজ প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবে ভারত। ওই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের প্রস্তুতিতে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতেই তারা আসিয়ান কাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতীয় ফুটবল দল সরে দাঁড়ানোর পর আয়োজক কমিটি বিলম্ব না করে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। বাফুফে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে সঙ্গে সঙ্গেই ফিফার কাছে অনুমোদনের আবেদন পাঠায়। আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মতি পাওয়ায় এখন লাল-সবুজ জার্সিধারীদের ইন্দোনেশিয়া যাত্রা নিশ্চিত।

টুর্নামেন্টের বিন্যাস অনুযায়ী বাংলাদেশ সরাসরি ভারতের জায়গাটিই দখল করছে। ফলে ‘এ’ গ্রুপে থেকে মাঠে নামবে দল। এই গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকছে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলে প্রতিটি দলই অত্যন্ত সুসংগঠিত ও শক্তিশালী। স্বাভাবিকভাবেই পরবর্তী রাউন্ডে উঠতে হলে বাংলাদেশকে কঠিন চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে।

এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া বাফুফের জন্য আর্থিক দিক থেকেও বেশ স্বস্তিদায়ক। সাধারণত দেশের বাইরে কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলতে গেলে বিমান ভাড়া, খেলোয়াড়দের আবাসন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাপনায় বিশাল অংকের অর্থ ব্যয় করতে হয়। তবে আসিয়ান কাপের ক্ষেত্রে দেশের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কোনো আর্থিক চাপ সহ্য করতে হচ্ছে না। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলকেই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অংশগ্রহণ ফি প্রদান করা হবে। তার ওপর দলগুলোর আসা-যাওয়া, স্থানীয় যাতায়াত এবং হোটেল আবাসনের সমস্ত খরচ বহন করছে আয়োজক কমিটি। ফলে অতিরিক্ত কোনো খরচ ছাড়াই জাতীয় দলকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলানোর চমৎকার সুযোগ পাচ্ছে বাফুফে।

ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে মাঠে নামাটা বাংলাদেশ দলের জন্য নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের বড় সুযোগ। বিশেষ করে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান ভালো করা এবং খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বাড়াতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। টুর্নামেন্টের দিন ঘনিয়ে আসায় খুব দ্রুতই জাতীয় দলের আবাসিক ক্যাম্প গঠন এবং জোরদার অনুশীলন শুরু করতে যাচ্ছে বাফুফে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর