আইপিএলের চলতি আসরে অবশেষে স্বস্তির হাসি ফিরল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) শিবিরে। টানা ছয় ম্যাচে জয়হীন থাকার পর সপ্তম ম্যাচে এসে তারা পেল মৌসুমের প্রথম জয়। রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ইডেন গার্ডেন্সে ৬ উইকেটের এই জয় কেবল পয়েন্ট তালিকায় স্বস্তি আনেনি, বরং দলের ভেতরে জমে থাকা চাপও অনেকটাই কমিয়েছে।
মৌসুমের শুরুটা ছিল কেকেআরের জন্য হতাশাজনক। প্রথম ছয় ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে তারা কার্যত চাপে ছিল। সেই একমাত্র পয়েন্টটি আসে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচ থেকে, যেখানে কোনো ফল হয়নি। এরপর একের পর এক ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতা, বোলিং অনিয়ম এবং ফিনিশিং দুর্বলতা দলটিকে জয়বঞ্চিত রেখেছিল। সপ্তম ম্যাচে এসে সেই ধারার অবসান ঘটল।
Table of Contents
রাজস্থানের ইনিংসে লড়াই, তবে বড় স্কোর নয়
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে রাজস্থান রয়্যালস। নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা ৯ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৫৫ রান। ইনিংসের শুরুতে যশস্বী জয়সওয়াল ২৯ বলে ৩৯ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। তবে ইনিংসের সর্বোচ্চ রান আসে বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাট থেকে, যিনি ২৮ বলে ৪৬ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ২টি ছক্কা।
মধ্য ওভারে কেকেআরের বোলাররা দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণ দেখায়। বিশেষ করে স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী ছিলেন অসাধারণ। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে নেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট, যা রাজস্থানের বড় স্কোর গড়ার সম্ভাবনা শেষ করে দেয়। শিমরন হেটমায়ার করেন ১৫ রান, তবে অন্যরা বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন।
কেকেআরের ইনিংসে নাটকীয় শুরু ও রোমাঞ্চকর সমাপ্তি
১৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কেকেআর শুরুতেই বড় ধাক্কা খায়। দুই ওপেনারই শূন্য রানে আউট হয়ে গেলে ইনিংস চাপে পড়ে যায়। শুরু থেকেই ম্যাচ রাজস্থানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল।
কিন্তু ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে ক্যামেরন গ্রিন ও রোভম্যান পাওয়েল। গ্রিন করেন ২৭ রান এবং পাওয়েল যোগ করেন ২৩ রান। এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন রিঙ্কু সিং। চাপের মুহূর্তে তিনি খেলেন ৩৪ বলে অপরাজিত ৫৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। তার ব্যাট থেকে আসে ৫টি চার ও ২টি ছক্কা।
শেষ দিকে অনুকুল রায় ১৬ বলে অপরাজিত ২৯ রান করে জয় নিশ্চিত করেন। ২ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় কেকেআর।
ম্যাচ পরিসংখ্যান
| বিভাগ | খেলোয়াড়/দল | পরিসংখ্যান |
|---|---|---|
| রাজস্থান রয়্যালস স্কোর | দলীয় | ৯ উইকেটে ১৫৫ রান |
| সর্বোচ্চ রান (RR) | বৈভব সূর্যবংশী | ৪৬ (২৮ বল) |
| কেকেআর সর্বোচ্চ রান | রিঙ্কু সিং | ৫৩* (৩৪ বল) |
| সেরা বোলিং | বরুণ চক্রবর্তী | ৪ ওভারে ১৪ রান, ৩ উইকেট |
| ফলাফল | কেকেআর | ৬ উইকেটে জয় (২ বল বাকি) |
বিশ্লেষণ: কেন জিতল কেকেআর
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জয়ের মূল ভিত্তি ছিল বোলিং শৃঙ্খলা এবং মাঝের ওভারে নিয়ন্ত্রণ। বরুণ চক্রবর্তীর স্পিন রাজস্থানের ইনিংস থামিয়ে দেয়, যা লক্ষ্য তাড়াকে সহজ করে।
অন্যদিকে ব্যাটিংয়ে শুরুতে ব্যর্থতা থাকলেও রিঙ্কু সিংয়ের পরিণত ইনিংস পুরো ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেয়। তার দায়িত্বশীল ব্যাটিংই কেকেআরকে জয়ের পথে ফিরিয়ে আনে।
তবে ওপেনিং ব্যর্থতা এখনো দলের জন্য বড় উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিভাগে উন্নতি না হলে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা কঠিন হবে।
এই জয়ের ফলে কেকেআর কেবল দুই পয়েন্টই অর্জন করেনি, বরং দীর্ঘ পরাজয়ের চাপ থেকেও মুক্তি পেয়েছে। ভক্তদের আশা, এই জয়ই হয়তো তাদের মৌসুম ঘুরিয়ে দেওয়ার সূচনা।
